আসামে বনভূমিতে উচ্ছেদ, ১,১০০-র বেশি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত
আসামের নগাঁও, হোজাই ও গোলাঘাট জেলায় শনি ও রোববার উচ্ছেদ অভিযানে ১,১০০-র বেশি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে স্ক্রল জানিয়েছে; ক্ষতিগ্রস্তদের বেশির ভাগ বাঙালি মুসলিম। শনিবার তিন জেলায় ৫৪৭ পরিবারকে উচ্ছেদ করা হয়; রোববার লুটুমারি লংজাপ সংরক্ষিত বনে ৬০০-র বেশি পরিবারের ঘর ভাঙা হয়েছে বলে এক বন কর্মকর্তা জানিয়েছেন। কর্তৃপক্ষ বলছে, পরিবারগুলো বনভূমি দখল করে ছিল; বাসিন্দারা বলছেন, ১৯৭৪ সালে সরকারই তাঁদের সেখানে বসিয়েছিল। এক বাসিন্দা ১০টির বেশি মসজিদ ভাঙার কথা বলেছেন, তবে এই সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই হয়নি। #Assam #India #Eviction #ForestLand #MeehaNews

ভারতের আসাম রাজ্যে দুই দিনের উচ্ছেদ অভিযানে ১ হাজার ১০০-র বেশি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতের সংবাদমাধ্যম স্ক্রল (Scroll)। ক্ষতিগ্রস্তদের বেশির ভাগ বাঙালি মুসলিম। কর্তৃপক্ষ বলছে, পরিবারগুলো সংরক্ষিত বনভূমি দখল করে ছিল। বাসিন্দারা এ দাবি অস্বীকার করেছেন।
স্ক্রলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার নগাঁও, হোজাই ও গোলাঘাট জেলায় একযোগে অভিযান চালানো হয়। তাতে ৫৪৭টি পরিবারকে উচ্ছেদ করা হয়: নগাঁওয়ে ৩৩৬, হোজাইয়ে ১৫২ ও গোলাঘাটে ৫৯। রোববার নগাঁওয়ের লুটুমারি লংজাপ সংরক্ষিত বনে এক জ্যেষ্ঠ বন কর্মকর্তার বরাতে ৬০০-র বেশি পরিবারের ঘর ভাঙার কথা এসেছে। কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে অভিযান চলে। দ্য প্রিন্টের প্রতিবেদনে দ্বিতীয় দিনের এই অভিযানে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সংখ্যা ‘প্রায় ৫০০’ বলা হয়েছে এবং অভিযান সোমবারও চলতে পারে বলে জানানো হয়েছে।
লুটুমারি এলাকার ৪৪ বছর বয়সী বাসিন্দা আবদুল নূর স্ক্রলকে বলেন, তাঁদের পূর্বপুরুষেরা ভূমিহীন ছিলেন এবং ১৯৭৪ সালে সরকার তাঁদের সেখানে বসিয়েছিল। তাঁর ভাষ্য, প্রায় ৩০০ ভূমিহীন পরিবারকে চার বিঘা করে জমি দেওয়া হয়েছিল এবং অনেকে বন বিভাগে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। তিনি ১০টির বেশি মসজিদ ভাঙার কথা বলেছেন, যার কোনো কোনোটি ৫০ বছরের বেশি পুরোনো। স্ক্রল এই সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করেনি।
সরকারি পক্ষ বলছে, ওই এলাকা সংরক্ষিত বন এবং পরিবারগুলো সেখানে অবৈধ দখলদার। নাম প্রকাশ না করা এক কর্মকর্তা দ্য প্রিন্টকে বলেন, গত বছর অভিযানের সময় পরিবারগুলো আদালতের স্থগিতাদেশ পেয়েছিল; পরে আইনি শর্ত পূরণ ও ছাড়পত্রের পর অভিযান শুরু হয়েছে। কর্মকর্তারা বলেছেন, অভিযান শান্তিপূর্ণ ছিল এবং কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। স্ক্রল জানায়, বাসিন্দারা গৌহাটি হাইকোর্টে যান; আদালত তাঁদের কোনো স্বস্তি দেয়নি।
ভারতের ‘অল ইন্ডিয়া ইউনিয়ন অব ফরেস্ট ওয়ার্কিং পিপল’ জুনে আসাম সরকারকে অভিযান বন্ধ করার অনুরোধ করেছিল। তাদের যুক্তি ছিল, লুটুমারির চারটি গ্রামের বাসিন্দাদের ঔপনিবেশিক আমলের ‘তাউনিয়া’ (taungya) ব্যবস্থায় সেখানে বসানো হয়েছে, তাই তাঁদের সাধারণ দখলদার গণ্য করা ঠিক নয়। তাউনিয়া ব্যবস্থায় বন বিভাগের শ্রমিক হিসেবে কাজ করার সময় বাণিজ্যিক গাছের পাশাপাশি খাদ্যশস্য চাষ করা হতো।
স্ক্রলের হিসাবে, গত ১০ বছরে বিজেপি শাসনে আসামে সরকারি জমি থেকে প্রায় ১৯ হাজার পরিবারকে উচ্ছেদ করা হয়েছে, যাদের বেশির ভাগ মুসলিম। আসাম সরকারের কোনো নামধারী কর্মকর্তার সরাসরি বক্তব্য প্রতিবেদনগুলোতে নেই।





