মূল কনটেন্টে যান
মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬২৮ আশ্বিন ১৪৩৩
মঙ্গলবার ১৩ অক্টোবর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
অনুসন্ধানী ও সর্বশেষ বাংলা সংবাদ
সর্বশেষ

কয়রার ২০ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই মুসলিম শিক্ষক, ইসলাম শিক্ষা পড়াচ্ছেন অমুসলিমরা

খুলনার কয়রা উপজেলার ২০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বর্তমানে কোনো মুসলিম শিক্ষক কর্মরত নেই। বাবুরাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১০৮ শিক্ষার্থীই মুসলিম, আর পাঁচ শিক্ষকই সনাতন ধর্মাবলম্বী। গড়িয়াবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১৪৩ শিক্ষার্থীর মধ্যে ৮৭ জন মুসলিম; ছয় শিক্ষকের কেউই মুসলিম নন। বিষয়টি নিয়ে অভিভাবকদের অভিযোগের পর প্রশাসন দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দিয়েছে। #Koyra #Education #IslamicEducation #Bangladesh #MeehaNews

কয়রার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা পড়াচ্ছেন অমুসলিম শিক্ষক
ছবিঃ কয়রা উপজেলা শিক্ষা অফিস

সুন্দরবনসংলগ্ন খুলনার কয়রা উপজেলার ২০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে কোনো মুসলিম শিক্ষক নেই। এসব বিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষার্থী মুসলিম হলেও ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা পড়াচ্ছেন অমুসলিম শিক্ষকরা। আরবি ভাষা, সূরা ও কিরাতসহ ধর্মীয় শিক্ষার কিছু মৌলিক বিষয় যথাযথভাবে শেখানো নিয়ে সীমাবদ্ধতার কথা জানিয়েছেন কয়েকজন অভিভাবক।

সুন্দরবনসংলগ্ন বাবুরাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বর্তমানে শিক্ষার্থী ১০৮ জন। তাদের সবাই মুসলিম। বিদ্যালয়টিতে পাঁচজন শিক্ষক কর্মরত থাকলেও তাঁরা সবাই সনাতন ধর্মাবলম্বী। ফলে মুসলিম শিক্ষার্থীদের ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা পড়ানোর দায়িত্বও তাঁদের পালন করতে হচ্ছে।

একই চিত্র গড়িয়াবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। বিদ্যালয়টিতে মোট শিক্ষার্থী ১৪৩ জন। এর মধ্যে ৮৭ জন মুসলিম। শিক্ষক রয়েছেন ছয়জন, কিন্তু তাঁদের কেউই মুসলিম নন। ফলে মুসলিম শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় শিক্ষা দেওয়ার ক্ষেত্রে নানা সীমাবদ্ধতার কথা উঠে এসেছে।

দক্ষিণ বেদকাশী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিস্থিতি আরও পুরোনো। স্থানীয়দের দাবি, প্রায় ১৯ বছর ধরে বিদ্যালয়টিতে কোনো মুসলিম শিক্ষক নেই। ফলে দীর্ঘদিন ধরে মুসলিম শিক্ষার্থীদের ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা পড়াচ্ছেন অমুসলিম শিক্ষকরা।

উপজেলা শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, কয়রার মোট ২০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বর্তমানে কোনো মুসলিম শিক্ষক কর্মরত নেই। বিদ্যালয়গুলো হলো—হাতিয়ারডাঙ্গা প্রাথমিক বিদ্যালয়, বাঁশখালী প্রাথমিক বিদ্যালয়, হড্ডা ডিএম প্রাথমিক বিদ্যালয়, উত্তর মহেশ্বরীপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়, হড্ডা প্রাথমিক বিদ্যালয়, বাবুরাবাদ প্রাথমিক বিদ্যালয়, হরিয়ারপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়, বানিয়াখালি সুন্দরবন প্রাথমিক বিদ্যালয়, তালবাড়িয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়, দক্ষিণ ভাগবা প্রাথমিক বিদ্যালয়, আংটিহারা প্রাথমিক বিদ্যালয়, দক্ষিণ বেদকাশী প্রাথমিক বিদ্যালয়, গাংরকি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পশ্চিম হড্ডা প্রাথমিক বিদ্যালয়, গড়িয়াবাড়ী প্রাথমিক বিদ্যালয়, বাউলিয়াঘাটা প্রাথমিক বিদ্যালয়, ঠাকুরের চর প্রাথমিক বিদ্যালয়, দক্ষিণ হাতিয়ারডাঙ্গা প্রাথমিক বিদ্যালয়, দক্ষিণ হড্ডা পল্লী উন্নয়ন প্রাথমিক বিদ্যালয় ও হাতিয়ারডাঙ্গা পূর্বচক প্রাথমিক বিদ্যালয়।

এসব বিদ্যালয়ের বেশিরভাগে চার থেকে ছয়জন করে শিক্ষক কর্মরত থাকলেও তাঁদের মধ্যে একজনও মুসলিম শিক্ষক নেই। ফলে মুসলিম শিক্ষার্থীদের ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা পড়ানোর দায়িত্ব অমুসলিম শিক্ষকদের ওপরই পড়ছে।

দীর্ঘদিন ধরে একই পরিস্থিতি চলায় সন্তানদের অন্য বিদ্যালয়ে ভর্তি করানোর কথা জানিয়েছেন কয়েকজন অভিভাবক। এতে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার্থী উপস্থিতি ও ভর্তি পরিস্থিতিতেও প্রভাব পড়ার কথা জানিয়েছেন তাঁরা।

গড়িয়াবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক মো. ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘শিক্ষকরা সনাতন ধর্মাবলম্বী হওয়ায় তাঁদের পক্ষে আরবি সূরা ও কেরাত শুদ্ধভাবে শেখানো সম্ভব হচ্ছে না। এতে কোমলমতি শিশুদের বুনিয়াদি ধর্মীয় শিক্ষা অপূর্ণ থেকে যাচ্ছে।’

গড়িয়াবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিজন বিহারী বর্মন বলেন, ‘ভৌগোলিক দূরত্বের কারণে নতুন শিক্ষকরা এখানে পদায়ন পেলেও দ্রুত বদলি হয়ে চলে যান। তবে আমি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। আশা করি দ্রুতই সমস্যার সমাধান হবে।’

কয়রা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তপন কুমার কর্মকার বলেন, সরকারি শিক্ষক নিয়োগের নীতিমালায় হিন্দু বা মুসলিম আলাদা করে পদায়নের নিয়ম নেই। এ কারণে এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হবে।

কয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আব্দুল্লাহ আল বাকী বলেন, ‘বিষয়টি আমি জানতে পেরেছি। অধিক গুরুত্ব দিয়ে বিধি মোতাবেক সমস্যাটির সমাধানের চেষ্টা করা হবে।’

প্রতিবেদনটি আপনার কাছে কেমন লাগল?

হাফিজুর রহমান

জেলা প্রতিনিধি

এই প্রতিবেদনে কোনো তথ্যগত ভুল চোখে পড়লে সংশোধনী নীতি অনুযায়ী আমাদের জানান।

মন্তব্য

মন্তব্য দেখতে বা লিখতে চাপ দিন। মন্তব্য সম্পাদকীয় নীতিমালা মেনে প্রকাশ হয়।

সারাংশ

কয়রার ২০ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই মুসলিম শিক্ষক, ইসলাম শিক্ষা পড়াচ্ছেন অমুসলিমরা

খুলনার কয়রা উপজেলার ২০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বর্তমানে কোনো মুসলিম শিক্ষক কর্মরত নেই।
বাবুরাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১০৮ শিক্ষার্থীই মুসলিম, আর পাঁচ শিক্ষকই সনাতন ধর্মাবলম্বী।
গড়িয়াবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১৪৩ শিক্ষার্থীর মধ্যে ৮৭ জন মুসলিম; ছয় শিক্ষকের কেউই মুসলিম নন।
বিষয়টি নিয়ে অভিভাবকদের অভিযোগের পর প্রশাসন দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দিয়েছে।

#Koyra #Education #IslamicEducation #Bangladesh #MeehaNews

আজ

মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

পাঠের রং

এখন যা বেশি খোঁজা হচ্ছে

যেকোনো পাতায় / চাপলেই খোঁজ খুলবে। ফলাফলে বিভাগ, তারিখ ও ধরন দিয়ে ছাঁকতে পারবেন।