প্রধান কন্টেন্টে যান
শুক্র ২ October ২৬
হেডলাইন
বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন
মাতৃভূমি / মাতৃভূমি

পরিবহন খাতের সিন্ডিকেট: ২৫ বছরে লাখো প্রাণহানি, দুর্নীতির দায় কার?

মোট শেয়ারমোঃ: 0

পরিবহন খাতের সিন্ডিকেট: ২৫ বছরে লাখো প্রাণহানি, দুর্নীতির দায় কার?

একনজরে

  • ১৬ বছরে পরিবহন খাত থেকে ২৪ হাজার কোটি টাকা চাঁদাবাজি করেছেন সাবেক নৌপরিবহনমন্ত্রী ও শ্রমিক ফেডারেশন নেতা শাজাহান খান — দৈনিক কালের কণ্ঠের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে এ তথ্য
  • ২০১৪ থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত ১২ বছর ৩ মাসে দেশে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে ৭০,৯৩৬টি, প্রাণ গেছে ৯৭,৪০৬ জনের, পঙ্গু হয়েছেন ১,৭১,৭০০ জন
  • বিআরটিএর ৩৫টি কার্যালয়ে একযোগে অভিযান চালিয়েছে দুদক — ফিটনেস সনদ ও ড্রাইভিং লাইসেন্সে ঘুষ-দালালির অভিযোগে
  • ফিটনেস সনদ পেতে ঘুষ লাগে ৫,০০০ থেকে ২০,০০০ টাকা, বিআরটিএ চেয়ারম্যান নিজেই স্বীকার করেছেন — “চোখে দেখে ফিটনেস দেওয়া হয়”
  • ঢাকার বায়ুদূষণের ৫০ শতাংশের জন্য দায়ী যানবাহনের ধোঁয়া — ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের জরিপ
  • সড়ক দুর্ঘটনার শাস্তি আইন সংশোধন করে বছরের পর বছর ধরে কমিয়ে আনা হয়েছে, ক্ষতিপূরণ মামলার আইনি স্বীকৃতিই এসেছে মাত্র ২০১৭ সালে

দেশের সড়ক পরিবহন খাত তিনটি সংকট একসঙ্গে বহন করছে — প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা, নিয়ন্ত্রণহীন বায়ুদূষণ, আর একটি সংগঠিত সিন্ডিকেটের হাতে জিম্মি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা। দেশি সংবাদমাধ্যম, সরকারি সংস্থা ও নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করে দেখা যায়, এই তিনটি সংকট একে অপরের সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িত — এবং এর কেন্দ্রে বারবার এসেছে একই নাম, একই সংগঠন, একই কাঠামো।

সিন্ডিকেট ও ক্ষমতার আঁতাত: কেস স্টাডি শাজাহান খান

গত দেড় দশকে বাংলাদেশের পরিবহন খাতে সবচেয়ে প্রভাবশালী নাম সাবেক নৌপরিবহনমন্ত্রী ও সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের নির্বাহী সভাপতি শাজাহান খান। দৈনিক কালের কণ্ঠের একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৬ বছরে তিনি পরিবহন খাত থেকে প্রায় ২৪ হাজার কোটি টাকা চাঁদাবাজি করেছেন। প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুসারে, ২০০৯ সাল থেকে প্রকাশ্যেই প্রতিটি নিবন্ধিত যানবাহন থেকে ৭০ টাকা করে চাঁদা আদায় হতো — এর মধ্যে ৪০ টাকা যেত মালিক সমিতির হাতে, বাকিটা শ্রমিক ইউনিয়নে।

২০০৯ থেকে টানা ১০ বছর নৌপরিবহনমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা শাজাহান খানের বিরুদ্ধে অভিযোগ শুধু চাঁদাবাজির নয়। দৈনিক ইনকিলাবের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরিবহন শ্রমিকদের ব্যবহার করে খুন, ডাকাতি, অপহরণ পর্যন্ত পরিচালিত হয়েছে বলে অভিযোগ, আর ২০২৪ সালের কোটাবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ঠেকাতেও পরিবহন শ্রমিকদের অস্ত্র হাতে মাঠে নামানো হয়েছিল। এর আগে ২০১৩ সালে তৎকালীন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বাসভবনের বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার ঘটনায়ও তাঁর নাম আসে ব্যাপকভাবে। প্রথম আলোর আরেকটি প্রতিবেদনে উঠে আসে, নৌপথের নিরাপত্তা তদারকির দায়িত্বে থাকা এই মন্ত্রীর পরিবারই দুর্ঘটনাপ্রবণ মাওয়া-কাঁঠালবাড়ি নৌপথে চলাচলকারী একটি শিপিং লাইনের মালিক ছিল — সরাসরি স্বার্থের সংঘাত।

শুধু একক ব্যক্তি নয়, পুরো কাঠামোটাই সিন্ডিকেট-নির্ভর। সিপিবির সাবেক সভাপতি মনজুরুল আহসান খান রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, ফেডারেশনের শীর্ষ নেতা হওয়ার সুবাদে সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির নেতা খন্দকার এনায়েত উল্যাহকে সঙ্গে নিয়ে সড়ক থেকে কোটি কোটি টাকা চাঁদাবাজি করেছেন শাজাহান খান, আর তাঁর ছিল নিজস্ব মাস্তান বাহিনী। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর শাজাহান খান গ্রেপ্তার হন, তবে তাঁর তৈরি করা কাঠামো — মালিক সমিতি ও শ্রমিক ফেডারেশনের যৌথ নিয়ন্ত্রণ — কতটা ভেঙেছে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

ফিটনেসবিহীন গাড়ি: ‘চোখে দেখে’ অনুমোদনের বাস্তবতা

সড়কে ঝুঁকিপূর্ণ গাড়ি চলাচলের গোড়ার কারণ খুঁজতে গেলে সরাসরি এসে দাঁড়ায় বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) ফিটনেস সনদ প্রদান প্রক্রিয়ায়। সিটিজেনস ভয়েসের একটি প্রতিবেদনে বিআরটিএ চেয়ারম্যান আবু মমতাজ সাদ উদ্দিন আহমেদ নিজেই স্বীকার করেন যে ফিটনেস পরীক্ষার প্রযুক্তিগত সক্ষমতা দুর্বল, আর বাস্তবে “চোখে দেখে” ফিটনেস সনদ দেওয়া হয় — যান্ত্রিক পরীক্ষা ছাড়াই। বাস মালিকদের অভিযোগ, নির্ধারিত ফি দেওয়ার পরও ঘুষ ছাড়া সনদ মেলে না — ঘুষের পরিমাণ ৫,০০০ থেকে ২০,০০০ টাকা পর্যন্ত। একজন বাসমালিকের ভাষ্য, “গাড়ি ঠিক থাকলেও টাকা না দিলে ইন্সপেক্টর কোনো না কোনো ত্রুটি ধরবে।”

এই দীর্ঘদিনের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৫ সালের মে মাসে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) দেশজুড়ে বিআরটিএর ৩৫টি কার্যালয়ে একযোগে অভিযান চালায়। দুদকের উপপরিচালক আকতারুল ইসলাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোরকে জানান, দীর্ঘদিন ধরে ফিটনেস সনদ ও ড্রাইভিং লাইসেন্স পেতে ঘুষ ও দালালচক্রের দৌরাত্ম্যের অভিযোগ পাওয়ার পরই এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। তবে বিআরটিএ চেয়ারম্যানের ভাষ্য অনুযায়ী কাঠামোগত সমস্যাও প্রকট — সড়কে বাসের সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় বেশি হওয়ায় পুরোনো, অনুপযুক্ত গাড়ি প্রতিস্থাপন না করে তা সরিয়ে ফেলা সম্ভব হচ্ছে না।

সড়ক দুর্ঘটনা: বছরের পর বছর বাড়তে থাকা সংকট

সময়কালদুর্ঘটনানিহতআহত/পঙ্গু
২০১৪ – মার্চ ২০২৬ (১২ বছর ৩ মাস)৭০,৯৩৬৯৭,৪০৬১,৭১,৭০০ পঙ্গু
জানুয়ারি ২০২০ – জুলাই ২০২৫ (৫.৫ বছর)৩৪,৮৯৪৩৭,৩৮২৫৯,৫৯৭ আহত
২০১৯ – জুন ২০২৬ (৭.৫ বছর, শুধু শিক্ষার্থী)—৭,৩৬৪ (শিক্ষার্থী)—
২০২৪ সাল (সারা দেশ)—৮,৫৪৩—
ঢাকা মহানগর, ২০২০ – জুলাই ২০২৬১,৮৪৯১,৩৮৪২,৪৮৮ আহত

উৎস: বাংলা ট্রিবিউন, যাত্রী কল্যাণ সমিতি, রোড সেফটি ফাউন্ডেশন, খবরসংযোগ, আমার বার্তা-র প্রতিবেদন থেকে সংকলিত। বিভিন্ন সংস্থার পরিসংখ্যানে সময়সীমা ভিন্ন হওয়ায় সরাসরি তুলনায় কিছু আসংগতি পরিলক্ষিত হতে পারে।

যাত্রী কল্যাণ সমিতির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩ সালের তুলনায় ২০২৪ সালে দুর্ঘটনা বেড়েছে ১.৫৪ শতাংশ, মৃত্যু বেড়েছে ৭.৫০ শতাংশ, আর আহতের সংখ্যা বেড়েছে ১৭.৭৩ শতাংশ — অর্থাৎ প্রতি বছরই পরিস্থিতি খারাপের দিকে যাচ্ছে, ভালোর দিকে নয়। একই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, গত ১০ বছরে মোটরসাইকেলের সংখ্যা ১৫ লাখ থেকে বেড়ে ৬০ লাখ হয়েছে, সঙ্গে নতুন করে ৬০ লাখ ব্যাটারিচালিত রিকশা যুক্ত হয়েছে সড়কে — ২০২৪ সালে মোট দুর্ঘটনার ৩৬.৬২ শতাংশ এবং মোট নিহতের ৩০.০৮ শতাংশই ছিল মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা। ঢাকা মহানগরের হিসাবে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পথচারীরা — মোট নিহতের ৪২.৭৭ শতাংশই পথচারী, রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী।

পরিবেশ দূষণ: কালো ধোঁয়ার রাজনীতি

সড়ক দুর্ঘটনার পাশাপাশি একই ফিটনেসবিহীন-গাড়ি সংকট সরাসরি জড়িত পরিবেশ দূষণের সঙ্গেও। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের ২০২০ সালের এক জরিপ অনুযায়ী, রাজধানীর বায়ুদূষণের প্রায় ৫০ শতাংশের জন্য দায়ী তরল জ্বালানি পোড়ানো যানবাহনের ধোঁয়া — বাস, লেগুনা, ব্যক্তিগত গাড়ি ও মাইক্রোবাস মিলিয়ে। সুইজারল্যান্ডের আইকিউএয়ারের ২০২১ সালের বিশ্ব বায়ুমান প্রতিবেদনে বায়ুদূষণে ঢাকার অবস্থান ছিল বিশ্বে দ্বিতীয়। পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন ইউরো-৪ বা ইউরো-৫ মানের গাড়ি পুরোনো গাড়ির তুলনায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ কম দূষণ ছড়ায়, কিন্তু মেয়াদোত্তীর্ণ গাড়ি সড়কে থেকে যাওয়ায় সামগ্রিক দূষণ কমছে না।

এখানেও একই সিন্ডিকেট-কাঠামোর প্রভাব স্পষ্ট। শম্প্রতিক দেশকালের একটি প্রতিবেদনে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পরিবেশবিদ সরাসরি বলেন, “এটা খোলাখুলি দোষ স্বীকার যে বাস মালিকদের চাপেই পুরোনো গাড়ি সরানো যাচ্ছে না।” প্রথম আলোর একটি প্রতিবেদনে দেখা যায়, কালো ধোঁয়া বন্ধে ঢাকা মহানগর পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার এনায়েত উল্যাহ-র বক্তব্য — একই ব্যক্তি, যাঁর নাম শাজাহান খানের চাঁদাবাজি সিন্ডিকেটেও এসেছে। ২০২৪ সালে সরকার ২০ বছরের বেশি পুরোনো বাস-মিনিবাস ও ২৫ বছরের বেশি পুরোনো ট্রাক-লরি মিলিয়ে ৭৩ হাজারের বেশি যানবাহন প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেয়, কিন্তু বাস্তবে তার প্রভাব সড়কে সীমিত থেকে গেছে বলে একাধিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

বিচারহীনতা: শাস্তি কমেছে, ক্ষতিপূরণ অধরা

দুর্ঘটনার পর জবাবদিহিতার চিত্রও উদ্বেগজনক। সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর ক্ষেত্রে ফৌজদারি কার্যবিধির ৩০৪(খ) ধারা সংশোধন করে সাজার মেয়াদ কমিয়ে আনা হয়েছে — বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরে এই মেয়াদ বাড়িয়ে অন্তত ১০ বছর করার দাবি জানিয়ে আসছেন। ক্ষতিপূরণের আইনি স্বীকৃতিও এসেছে বিলম্বে — চলচ্চিত্র নির্মাতা তারেক মাসুদের সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর পর দায়ের করা মামলায় ২০১৭ সালে হাইকোর্টের একটি পর্যবেক্ষণেই প্রথম স্পষ্টভাবে বলা হয়, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো ক্ষতিপূরণ চেয়ে মামলা করতে পারবে। অর্থাৎ, প্রতিদিন গড়ে ২২টির বেশি দুর্ঘটনা ঘটা একটি দেশে, ক্ষতিপূরণ চাওয়ার আইনি পথ সুস্পষ্টভাবে প্রতিষ্ঠিত হতে সময় লেগেছে দশকের পর দশক।

সরকার বদল, সিন্ডিকেট অটুট?

পরিবহন খাতের এই সংকটের একটি স্পষ্ট রাজনৈতিক সময়রেখা আছে। ২০০৯ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে শাজাহান খান নৌপরিবহনমন্ত্রী ও শ্রমিক ফেডারেশন নেতা হিসেবে একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেন — এই সময়েই প্রকাশ্য চাঁদাবাজি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায় এবং তা বছরের পর বছর অব্যাহত থাকে। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়, আর দুদক বিআরটিএর দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রথমবারের মতো ব্যাপক অভিযানে নামে।

তবে কাঠামোগত সংস্কার কতটা হয়েছে, তা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন থেকে যায়। বিআইডব্লিউটিএ-তে “শাজাহান-খালিদের সাম্রাজ্য” শীর্ষক আমার বার্তার একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, পুরোনো সিন্ডিকেটের প্রভাব বলয় সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন হয়নি — একই ধরনের কমিশন-বাণিজ্য ও অনিয়মের অভিযোগ নতুন প্রশাসনের সময়েও অব্যাহত থাকার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে বলে একাধিক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। অর্থাৎ, ব্যক্তি বদলালেও পরিবহন মালিক সমিতি ও শ্রমিক ফেডারেশনের যৌথ নিয়ন্ত্রণ-কাঠামোটি — যা চাঁদাবাজি, ফিটনেস দুর্নীতি এবং পুরোনো গাড়ি সড়কে রেখে দেওয়ার সিদ্ধান্ত, তিনটির পেছনেই সক্রিয় — তা কতটা ভেঙেছে, সেই প্রশ্নের সন্তোষজনক উত্তর এখনো মেলেনি।

উপসংহার

পরিবহন খাতের সংকট বিচ্ছিন্ন কোনো সমস্যা নয় — এটি একটি একক ক্ষমতা-কাঠামোর ফল, যেখানে মালিক সমিতি ও শ্রমিক ফেডারেশনের যৌথ নিয়ন্ত্রণ রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতার সঙ্গে মিলে তৈরি করেছে এমন এক ব্যবস্থা, যেখানে ফিটনেসবিহীন গাড়ি সড়কে চলে ঘুষের বিনিময়ে, দুর্ঘটনার পর জবাবদিহিতা প্রায় অনুপস্থিত, আর বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ ভেস্তে যায় মালিকপক্ষের চাপে। ২০২৪ সালের পটপরিবর্তন এই কাঠামোর শীর্ষ ব্যক্তিদের সরিয়েছে, দুদকের অভিযানের মতো নজিরবিহীন পদক্ষেপও দেখা গেছে — কিন্তু অন্তর্নিহিত কাঠামো, যেখানে মালিক-শ্রমিক সংগঠন আর নিয়ন্ত্রক সংস্থা একসূত্রে গাঁথা, তা এখনো পুরোপুরি ভাঙেনি বলেই সাম্প্রতিক প্রতিবেদনগুলো ইঙ্গিত করছে। প্রকৃত সংস্কার নির্ভর করছে ব্যক্তি অপসারণের বদলে এই কাঠামোগত জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার ওপর।


তথ্যসূত্র: দৈনিক কালের কণ্ঠ, প্রথম আলো, দৈনিক ইনকিলাব, রূপালী বাংলাদেশ, আমার বার্তা, বাংলা ট্রিবিউন, সিটিজেনস ভয়েস, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর, বেনারনিউজ, দেশকাল, গ্রীন পেইজ, নিউজবাংলা২৪, যাত্রী কল্যাণ সমিতি, রোড সেফটি ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ), দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), এনটিভি, খবরসংযোগ।

প্রতিবেদনটি একাধিক দেশীয় সংবাদমাধ্যম ও সরকারি সংস্থার প্রকাশিত তথ্য পর্যালোচনা করে প্রস্তুত। বিভিন্ন সংস্থার পরিসংখ্যানে সময়সীমা ও পদ্ধতিগত পার্থক্য থাকতে পারে, যা যথাসম্ভব প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

মোট শেয়ারমোঃ: 0

পোস্টটি কেমন লাগলো?

মন্তব্য করুন

একটি মন্তব্য লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না। প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলো * দ্বারা চিহ্নিত।

সম্পর্কিত খবর

সাম্প্রতিক খবর

নেতানিয়াহুর ৮ ঘণ্টার সফর, ট্রাম্পহীন সাক্ষাৎ—পশ্চিমারা কি সত্যিই পতন চায়?

নেতানিয়াহুর ৮ ঘণ্টার সফর, ট্রাম্পহীন সাক্ষাৎ—পশ্চিমারা কি সত্যিই পতন চায়?

১ ঘণ্টা আগে
বন্ধ দরজা আর একটি ‘না’: স্বরা ভাস্করের সেই রাতের গল্প

বন্ধ দরজা আর একটি ‘না’: স্বরা ভাস্করের সেই রাতের গল্প

১ ঘণ্টা আগে
সাদের অনুরোধে বদলে গেল এলেনার গল্প: আগে ইন্দোনেশিয়া, এখন নেপাল

সাদের অনুরোধে বদলে গেল এলেনার গল্প: আগে ইন্দোনেশিয়া, এখন নেপাল

১ ঘণ্টা আগে
ময়মনসিংহে বাসচাপায় নিহত ৭, একই পরিবারের ৪ জন

ময়মনসিংহে বাসচাপায় নিহত ৭, একই পরিবারের ৪ জন

১ ঘণ্টা আগে
সুইচ আমাদের হাতে, বিদ্যুৎ কার হাতে?

সুইচ আমাদের হাতে, বিদ্যুৎ কার হাতে?

৬ ঘণ্টা আগে
নামফলকে লেখা হলো, মুছে গেল, আবার ফিরল—ঢাবির এক হল, দুই নাম আর অভ্যুত্থানের অসমাপ্ত প্রশ্ন

নামফলকে লেখা হলো, মুছে গেল, আবার ফিরল—ঢাবির এক হল, দুই নাম আর অভ্যুত্থানের অসমাপ্ত প্রশ্ন

১ দিন আগে
গোল নয় গোলপাতা: সুন্দরবনের সবুজ আচ্ছাদন, যার আড়ালে লুকিয়ে বাঘের নিঃশ্বাস

গোল নয় গোলপাতা: সুন্দরবনের সবুজ আচ্ছাদন, যার আড়ালে লুকিয়ে বাঘের নিঃশ্বাস

৫ দিন আগে
মেহেরুনকে নিয়ে ‘উধাও’ আইএইচটি শিক্ষক অসীম কুমার

মেহেরুনকে নিয়ে ‘উধাও’ আইএইচটি শিক্ষক অসীম কুমার

২ সপ্তাহ আগে

সর্বাধিক পঠিত