ওয়াকিল হোসেনকে ধরতে অভিযানের পর খুলশী থানার সাবেক ওসি খুলনায় বদলি
খুলশী থানার সাবেক ওসি আবদুর রহিম চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ থেকে ছাড়পত্র নিয়েছেন। তাঁকে খুলনা পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারে বদলি করা হয়েছে। ওয়াকিল হোসেন ওরফে বগাকে ধরতে নগর ভবনে পুলিশের অভিযানের পরদিন মেয়র শাহাদাত হোসেন ওসির বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন। কয়েক ঘণ্টা পর ওসিকে নগর বিশেষ শাখায় বদলি…

চট্টগ্রামের খুলশী থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রহিমকে খুলনা পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারে বদলি করা হয়েছে। শনিবার (১০ অক্টোবর) তিনি চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) থেকে ছাড়পত্র নিয়েছেন। পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজি (প্রশাসন) এ কে এম আওলাদ হোসেনের স্বাক্ষরিত চিঠিতে ১০ অক্টোবরের মধ্যে ছাড়পত্র নিয়ে খুলনায় যোগ দিতে বলা হয়েছিল। প্রথম আলোকে আবদুর রহিম বলেন, তিনি যোগদানের জন্য ছাড়পত্র নিয়েছেন।
বদলির প্রেক্ষাপট চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র শাহাদাত হোসেনের সঙ্গে পুলিশের টানাপোড়েন। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাতটার দিকে ওয়াকিল হোসেন ওরফে বগা নগর ভবনে আছেন, এমন খবরে খুলশী থানা-পুলিশ সেখানে যায়। ভবনে ঢোকার চেষ্টায় মেয়র ও পুলিশ কর্মকর্তাদের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়। প্রায় তিন ঘণ্টা অবস্থান করেও ওয়াকিলকে পাওয়া না গেলে পুলিশ ফিরে আসে।
পরদিন বুধবার মেয়র সাংবাদিকদের বলেন, ওয়াকিল সন্ত্রাসী নন, ‘জুলাই যোদ্ধা’। তিনি ওসিকে সরানোর দাবি জানান। তাঁর অভিযোগ, আবদুর রহিম ছাত্রদল ও যুবদলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে ব্যবস্থা নিচ্ছেন। কিশোর হৃদয় হত্যা মামলার এক আসামিকে মারধর করে ওয়াকিলের নাম বলানো হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। এসব অভিযোগের স্বতন্ত্র প্রমাণ পাওয়া যায়নি। আবদুর রহিম জানান, অভিযানের সময় তিনি ছুটিতে ছিলেন এবং অভিযানের বিষয়টি তিনি জানতেন না। মেয়রের আরও কিছু অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেছেন।
মেয়র প্রথম আলোকে বলেন, পুলিশ ওয়াকিলকে ধরতে নয়, তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে এসেছিল। তিনি কাউকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছেন না। কেউ অপরাধ করলে পুলিশ ব্যবস্থা নিক। মেয়রের এই বক্তব্য পুলিশের বিবরণের সঙ্গে মেলে না।
বুধবার সন্ধ্যায় আবদুর রহিমকে খুলশী থানা থেকে সরিয়ে নগর বিশেষ শাখায় (সিটি এসবি) নেওয়া হয়। নগর পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী প্রথম আলোকে বলেন, বদলি রুটিনমাফিক, কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে তাঁদের অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’। প্রথম আলো পুলিশের অন্তত ১০ জন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেছে। তাঁদের কয়েকজন প্রশ্ন তুলেছেন, রাজনৈতিক নেতার অভিযোগে কর্মকর্তাকে সরানো হলে মাঠপর্যায়ে পুলিশ কীভাবে কাজ করবে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ওয়াকিল মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক। অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে তিন মাস আগে তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। হত্যা, অস্ত্র, মাদক, চাঁদাবাজি ও দখলসহ ২৩টি মামলা আছে বলে পুলিশ জানায়। ৪ সেপ্টেম্বর তাঁকে গ্রেপ্তারে গেলে পুলিশের ওপর হামলায় ওসিসহ ছয় সদস্য আহত হন। তাঁর বাবা ওসির বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করে অভিযোগ করেছেন, ওই দিন পুলিশ তাঁদের বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়েছে। মামলাটি তদন্ত করছে সিআইডি। ওয়াকিলের ভাই নগর ছাত্রদলের সদস্য রকি হোসেন বলেছেন, রাজনৈতিকভাবে হেয় করতে একটি পক্ষ ষড়যন্ত্র করছে।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) চট্টগ্রাম নগরের সভাপতি আখতার কবির চৌধুরী বলেন, অপরাধীকে ধরতে মেয়রের পুলিশকে সহযোগিতা করা উচিত ছিল। ওসির বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা পুলিশ কমিশনারকে জানানো যেত।




