লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে মাদ্রাসায় শিশুদের শিকলে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ
লক্ষ্মীপুরের রামগতির একটি মাদ্রাসায় শিশুদের মারধর ও শিকলে বেঁধে রাখার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার একাধিক ভিডিও ও দুটি ছবি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়েছে। প্রধান শিক্ষক হাবিবুল্লাহ নীরব বলেছেন, একজন শিক্ষক শিক্ষার্থীকে নির্যাতন করেছেন এবং তাঁকে বহিষ্কার করা হয়েছে। নিজের বিরুদ্ধে অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেছেন। ইউএনও জানিয়েছেন, প্রধান…

লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে একটি মাদ্রাসায় শিশু শিক্ষার্থীদের মারধর, শারীরিক নির্যাতন ও শিকল দিয়ে বেঁধে রাখার অভিযোগ উঠেছে। নির্যাতনের একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক ও মুহতামিম মাওলানা হাবিবুল্লাহ নীরবের বিরুদ্ধে ক্ষোভ জানিয়েছেন অভিভাবক ও স্থানীয় লোকজন। ঘটনাটি ঘটেছে রামগতি পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মাদ্রাসায়ে বাবুত তাকওয়ায়। কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির নাম লেখা হয়েছে ‘আলেকজান্ডার মাদ্রাসায়ে বাবুত তাকওয়া’।
ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, কক্ষের দরজা বন্ধ করে এক শিশুকে এলোপাতাড়ি চড়-থাপ্পড় মারা হচ্ছে। একপর্যায়ে তার মাথায় আঘাত করা হয়, পরে স্কেল দিয়ে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় মারা হয়। আরেক ভিডিওতে এক শিশুকে দেয়ালের সঙ্গে ধরে মাথায় বারবার আঘাত করতে দেখা যায়। তৃতীয় একটি ভিডিওতে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে মারধর করা হচ্ছে। যুগান্তরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুটি ছবিতে জানালার সঙ্গে শিকল দিয়ে দুই শিশুকে বেঁধে রাখার দৃশ্য আছে। ওই প্রতিবেদনে আরও অভিযোগ আছে, ঘটনার সময় অন্য শিক্ষকেরা উপস্থিত থাকলেও কেউ বাধা দেননি। ভিডিওতে মারধরকারীর পরিচয় প্রতিবেদনগুলোতে স্পষ্ট করা হয়নি।
অভিভাবকেরা বলছেন, এটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। তাঁদের অভিযোগ, শাসনের নামে দীর্ঘদিন ধরে শিশুদের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হচ্ছে, কোনো কোনো শিশুকে শিকলে বেঁধেও রাখা হয়েছে। স্থানীয়দের একাংশ কোনো কারণ ছাড়াই শিকলে বাঁধার অভিযোগ করেছেন। এসব দাবি এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই হয়নি। অভিভাবকেরা ঘটনার তদন্ত, দায়ীদের বিচার ও মাদ্রাসার শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে হাবিবুল্লাহ নীরব বলেন, একজন শিক্ষক শিক্ষার্থীকে নির্যাতন করেছেন, তাঁকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তিনি নিজে এসবের সঙ্গে জড়িত নন বলে জানান। মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক আবদুল মতিন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে প্রধান শিক্ষকের পক্ষ থেকে ক্ষমা চেয়েছেন।
রামগতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ এহসান উদ্দীন বলেন, প্রধান শিক্ষক পলাতক। তাঁকে আগে ধরা দিতে হবে, এরপর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাঁর ভাষ্য, অভিভাবকেরা তাঁর কাছে এসেছিলেন, তবে লিখিত অভিযোগ করেননি। মামলা হয়েছে কি না বা কেউ গ্রেপ্তার হয়েছেন কি না, প্রতিবেদন তৈরির সময় পর্যন্ত সূত্রগুলোতে তা উল্লেখ নেই।
মাদ্রাসাটি ২০২৫ সালে রামগতি পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডে একটি ভবনের দ্বিতীয় তলা ভাড়া নিয়ে চালু হয়। শিশু শ্রেণি থেকে তৃতীয় জামাত পর্যন্ত এখন সেখানে দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী পড়ছে বলে জানা গেছে। হাবিবুল্লাহ নীরব ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের রামগতি পৌরসভা শাখার সভাপতিও।




