মূল কনটেন্টে যান
মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬১১ কার্তিক ১৪৩৩
মঙ্গলবার ২৭ অক্টোবর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ ১১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ১৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
অনুসন্ধানী ও সর্বশেষ বাংলা সংবাদ
গল্প

হারেমের রেডিও

আলমগীর রিয়াদ

পুকুরঘাটে রেডিও হাতে এক গ্রামীণ দম্পতি, ‘হারেমের রেডিও’ গল্পের অলংকরণ
পুকুরঘাটে রেডিও হাতে এক গ্রামীণ দম্পতি, ‘হারেমের রেডিও’ গল্পের অলংকরণ

১)

রেডিও কোলে করে বসে আছে হারেম। একটা সংবাদ কিছুটা অস্বস্তিতে ফেলে দিয়েছে তাকে। সংবাদে বলা হয়েছে, আজকের পর সম্ভবত আর কোনো দিন সকাল আসবে না বিশ্ববাসীর কাছে, সূর্যটা বারো ঘণ্টা পর মহাবিশ্ব থেকে উধাও হয়ে যাবে।

হারেম জন্মান্ধ। দিন আর রাতের পার্থক্য তার জানবার কথা নয়। তবুও প্রকৃতির এই বিরূপ আচরণ তার মোটেও পছন্দ হচ্ছে না। সখিনার জন্য দুশ্চিন্তা হচ্ছে তার। মেয়েটা অন্ধকার সহ্য করতে পারে না একদম। সে আবারও রেডিওটার সুইচ অন করে। তাকে হতাশ করে দিয়ে রেডিও একই সংবাদ বারবার রিপিট করে যাচ্ছে। হারেম ক্ষুব্ধ হয়। তার ইচ্ছা হয় এক আছাড়ে রেডিওটা চূর্ণবিচূর্ণ করে দিতে। কিন্তু সে কিছুই করে না। রেডিওটা বন্ধ করে বিছানার কাছে যত্ন করে রেখে দেয়।

২)

সখিনা এক ঘণ্টা ধরে উঠান ঝাড়ু দিচ্ছে, তবুও কিছুতেই মনঃপূত হচ্ছে না তার। সখিনার স্বভাবটাই এমন খুঁতখুঁতে। কোনো কিছুতেই সে স্থির হতে পারে না। হঠাৎ কিছু একটা মনে পড়েছে, এমন ভঙ্গিতে সখিনা রণে ভঙ্গ দেয়।

হারেম পুকুরপাড়ে বসে আছে। একটা নিমের ডাল পড়ে আছে খানিক দূরে। সম্ভবত ওটাকে এখনো ব্যবহার করা হয়নি। এমন সময় পুকুরপাড়ে আসে সখিনা।

সখিনা হারেমের পাশে বসে তাকে কনুই দিয়ে মৃদু ধাক্কা দেয়। এর অর্থ, অনেক বেলা হয়েছে, নাশতা করবে চলো। হারেম ওঠে না। সখিনার দিকে তাকিয়ে বলে,

—ধরো, আজকের পর যদি আর কোনো দিন সকাল না আসে?

সখিনা হাসে। যেন প্রশ্নটা বুঝতে পেরেছে সে।

আসলে আজ সকাল থেকে সে তার স্বামীর কোনো কথাই বুঝতে পারছে না। সখিনা বুঝতে পারে, রেডিওটাই যত নষ্টের গোড়া! কী যে শোনে রাত-দিন, আল্লাহ জানে! এর আগে কখনো এমন হয়নি। সে বোবাকালা হয়েও সবকিছু বুঝতে পারতো। সামান্য ঠোঁটের ইশারায় তার স্বামীর কখন কী প্রয়োজন, সে টের পেয়ে যেত। দুর্ভাগ্যবশত আজ সকাল থেকে সে কিছুই বুঝতে পারছে না। স্বামীর মন খারাপ হবে ভেবে সে মুখটা হাসি হাসি করে রাখার চেষ্টা করছে। সখিনা বিশ্বাস করে, হারেম অন্ধ হলেও তার হাসিটা নিশ্চয়ই দেখতে পায়। না হলে সে যখন হাসে, মানুষটার মুখ ওমন নিষ্পাপ শিশুদের মতো হয়ে যাবে কেন?

৩)

অনেক চেষ্টা করেও যখন সখিনার বিয়ে হচ্ছিলো না, ঠিক তখনই একটা সুখবর আসলো বরুন্ডী গ্রামের মতিন মিয়ার বাড়ি। ছেলে জন্মান্ধ। এমন দুর্দিনে এও কম কী! সেদিন রাতে সখিনা খুব কাঁদলো। তারপর নিজেকে প্রবোধ দিলো, সেও তো বোবা! তাকে জন্মান্ধ ছাড়া আর কেইবা বিয়ে করবার দুঃসাহস দেখাবে?

বিয়ের পর তার সমস্ত ধারণা পালটে গেল। কদিন বাদেই সে বুঝতে পারলো, তার স্বামী অসাধারণ একজন মানুষ। তাকে বুঝতেই দিলো না যে সে একজন বোবা। এমনকি সে নিজেও যে অন্ধ, এটাও বুঝতে দিলো না তাকে। অথচ সে যখন বাবার বাড়ি ছিল, তখন সবার আচরণ প্রতিনিয়তই তাকে বুঝিয়ে দিতো—তুই বোবা! আট-দশটা সাধারণ মানুষের মতো তোর জীবন নয়! তুই আলাদা! তুই অপূর্ণ।

৪)

পরদিন সখিনা আর হারেম বসে আছে পুকুরঘাটে। রেডিওটা বেজে চলেছে। প্রত্যেকের আশঙ্কা সত্য করে দিয়ে উধাও হয়ে গেছে সূর্য। আজ থেকে কেবল অন্ধকার আর অন্ধকার।

হঠাৎ সখিনার চোখ পড়ে তাদের উঠানে। সে চিৎকার করে তার স্বামীর উদ্দেশে বলতে চাইলো,

—দেখ, সূর্যটা আমাদের উঠানে পড়ে আছে!

লেখাটি হৃদয় ছুঁয়ে গেলে জানান

আলমগীর রিয়াদ

লেখক ও সাহিত্যিক

এই প্রতিবেদনে কোনো তথ্যগত ভুল চোখে পড়লে সংশোধনী নীতি অনুযায়ী আমাদের জানান।

মন্তব্য

মন্তব্য দেখতে বা লিখতে চাপ দিন। মন্তব্য সম্পাদকীয় নীতিমালা মেনে প্রকাশ হয়।

  • প্রেম গহীন বন

    যে-নদী ঘর কেড়ে নেয়, তারই কিনারে আবার ঘর বাঁধে কয়রার গোবরা গ্রামের মানুষ। জেলেকন্যা রুহির বাবা বাদায় গিয়ে আর ফেরেননি; সে শুধু…

    মোল্ল্যা হাফিজ বিন মাছুম

  • লাশকাটা ঘরে একদিন

    ভোররাতে বাসার নিচে ২৩ বছরের এক যুবককে চোর সন্দেহে পেটাচ্ছিল সাত-আটজন। গল্পের কথক নিজেই গিয়ে নির্যাতনে নেতৃত্ব দেন, আর মারের মধ্যেই যুবকটি…

    আলমগীর রিয়াদ

  • মেহেদি রাঙা শাড়ির আঁচল

    মৌয়াল নুরু ঠিক করে, মৌ বেচে নওয়াবেকির হাট থেকে স্ত্রী মর্জিনার জন্য নতুন শাড়ি কিনবে। বারো বছরের সংসারে তালি দেওয়া শাড়িই মর্জিনার…

    মাসরুর মুস্তাফি

মিহা স্পেশাল

আজ

মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬১১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ১৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

পাঠের রং

এখন যা বেশি খোঁজা হচ্ছে

যেকোনো পাতায় / চাপলেই খোঁজ খুলবে। ফলাফলে বিভাগ, তারিখ ও ধরন দিয়ে ছাঁকতে পারবেন।