জুলাই ব্যর্থ হলে ব্যর্থ বাংলাদেশ, সতর্ক করলেন কাকন রেজা
দৈনিক আমার দেশে প্রকাশিত কলামে কাকন রেজা লিখেছেন, লালন আখড়ায় বোমা, সার ও বিদ্যুৎ সংকটের মতো ঘটনার উদ্দেশ্য জুলাই-পরবর্তী সরকারকে কালিমালিপ্ত করা। তাঁর সতর্কবার্তা, জুলাই ব্যর্থ হওয়া মানে বাংলাদেশের ব্যর্থ হওয়া। প্রধানমন্ত্রী এমপি ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি ও প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনকে সরে যেতে বলেছিলেন বলে খবর এসেছিল। লেখক এ পদক্ষেপের প্রশংসা করেছেন, সঙ্গে আরও কঠোর হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। কলামে উল্লেখ করা ষড়যন্ত্রের দাবিগুলোর পক্ষে স্বতন্ত্র প্রমাণ দেওয়া হয়নি।#Bangladesh #OpEd #JulyUprising #BangladeshPolitics #MeehaNews

বাংলাদেশকে ‘ব্যর্থ রাষ্ট্র’ হিসেবে দেখানোর ষড়যন্ত্র চলছে বলে মনে করেন সাংবাদিক ও কলামিস্ট কাকন রেজা। আজ রোববার দৈনিক আমার দেশে প্রকাশিত ‘ব্যর্থ রাষ্ট্রের ষড়যন্ত্র থেকে সাবধান’ শিরোনামের উপসম্পাদকীয়তে তিনি এ মত দিয়েছেন। তাঁর মতে, এসব ঘটনার লক্ষ্য একটাই, জুলাই-পরবর্তী সরকারকে কালিমালিপ্ত করা।
কলামের শুরু কুষ্টিয়ার লালন সাঁইয়ের আখড়াবাড়িতে পাওয়া বোমা দিয়ে। কাকন রেজার মতে, বোমাটি বিস্ফোরিত হলে তা দিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে ব্যর্থ প্রমাণের চেষ্টা হতো। এতে ‘চিহ্নিত’ গণমাধ্যম আর ‘তথাকথিত বুদ্ধিজীবী’রা সুর মেলাতেন। মানুষকে বিভক্ত করার পরিকল্পনা হিসেবেই তিনি ঘটনাটিকে দেখছেন।
দ্য ডেইলি স্টারের খবর অনুযায়ী, গত সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাত দুইটার দিকে কুমারখালীর ছেঁউড়িয়ায় আখড়াবাড়ির প্রবেশপথে বস্তুটি পায় পুলিশ। তখন চলছিল লালনের ১৩৬তম তিরোধান দিবসের অনুষ্ঠান। সকাল আটটার দিকে বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল সেটিকে নিষ্ক্রিয় করে। পুলিশ বস্তুটিকে আইইডি (IED, ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস) বলেছে। কে বা কারা এটি রেখেছিল, সে বিষয়ে কোনো তথ্য বা গ্রেপ্তারের খবর ওই প্রতিবেদনে নেই।
সার ও বিদ্যুতের সাময়িক সংকটকেও ষড়যন্ত্রের অংশ মনে করেন লেখক। উদাহরণ হিসেবে তিনি নিজের জেলা শেরপুরের কথা লিখেছেন। তাঁর দাবি, ছাত্রলীগের এক নেতা সদর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা হিসেবে ১৪ জন ডিলারের বিরুদ্ধে সার চোরাচালানের মামলা করেন। উদ্দেশ্য ছিল ডিলারদের ধর্মঘটে ঠেলে দিয়ে জেলায় ও দেশে সারের সংকট তৈরি করা। তবে স্থানীয় প্রশাসন ও গোয়েন্দা সংস্থা পরিস্থিতি সামাল দিয়েছে বলে লিখেছেন তিনি। বিদ্যুৎ খাতের সংকটের পেছনে তিনি ‘তথাকথিত বন্ধুরাষ্ট্রের’ ভূমিকার ইঙ্গিত দিয়েছেন, তবে বিস্তারিত দেননি।
শেরপুরের মামলাটির সরকারি তথ্য কলামের বিবরণের সঙ্গে পুরোপুরি মেলে না। খবর সংযোগের প্রতিবেদন অনুযায়ী:
মামলাটি করেন সদর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেন, গত ২২ জুলাই, বিশেষ ক্ষমতা আইনে।
আসামি ২০ জন। তাঁদের বিরুদ্ধে প্রায় ১৪ কোটি টাকার সরকারি সার কালোবাজারে বিক্রির অভিযোগ।
২২ সেপ্টেম্বর জামিনের মেয়াদ শেষে ১৫ ডিলারকে কারাগারে পাঠানো হয়।
ওই প্রতিবেদনে বাদীর রাজনৈতিক পরিচয় বা ডিলারদের ধর্মঘটের কোনো উল্লেখ নেই।
রাজনীতিকদের উদ্দেশে কাকন রেজার সতর্কবার্তা, জুলাইকে দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করলে জুলাই কলঙ্কিত হবে। তিনি লিখেছেন, ‘জুলাই ব্যর্থ হওয়া মানে বাংলাদেশের ব্যর্থ হওয়া।’ তাঁর আশঙ্কা, তেমন হলে দেশে কায়েম হবে ‘জমিদারতন্ত্র’, আর নিপীড়ন হবে গত ১৫ বছরের চেয়েও ভয়াবহ।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই ষড়যন্ত্র বোঝেন বলে মনে করেন লেখক। প্রধানমন্ত্রীর এক বক্তব্যের উল্লেখ করে তিনি লিখেছেন, আগের সরকারের সুবিধাভোগীরা এখনো রাষ্ট্র ও প্রশাসনে রয়ে গেছেন। প্রশংসা করেছেন দুটি পদক্ষেপের:
রাডা ক্লিনিকের ঘটনায় সংরক্ষিত আসনের এক নারী সংসদ সদস্যকে পদত্যাগে বাধ্য করা।
অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনার পর প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের পদত্যাগ।
প্রথম আলোর খবর অনুযায়ী, রাডা এমসিএইচ-এফপি কেন্দ্র লুট ও গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় নাম জড়ানোর পর ১ অক্টোবর পদত্যাগ করেন বিএনপির সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সূত্রগুলো বলেছিল, প্রধানমন্ত্রী তাঁকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছিলেন। তবে মিষ্টি নিজে তদন্তের দাবি জানিয়েছিলেন। ডেইলি স্টার জানিয়েছে, ঢাকার গেন্ডারিয়ায় মাদকবিরোধী কর্মসূচিতে প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র দেখানোর ঘটনায় সমালোচনার মুখে পড়েন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। এরপর গত ১৯ অক্টোবর তিনি পদত্যাগের ঘোষণা দেন। ইশরাক বলেছেন, তিনি স্বেচ্ছায় অব্যাহতি চেয়েছেন এবং কোনো ভুল করেননি।
কলামের শেষে লেখকের আহ্বান, শুধু বুঝলে চলবে না, কাজেও দেখাতে হবে। ষড়যন্ত্রকারীদের চিহ্নিত করে সরাতে হবে। প্রশাসন ও গোয়েন্দা সংস্থাকে সতর্ক থাকতে হবে। আর প্রধানমন্ত্রীকে বাইরের শত্রুর পাশাপাশি ঘরের ‘বিভীষণ’দের দিকেও নজর রাখতে হবে।
এ লেখা দৈনিক আমার দেশে প্রকাশিত কাকন রেজার কলামের সারসংক্ষেপ। কলামে প্রকাশিত মত লেখকের নিজস্ব।





