আড্ডা থামে, গান থামে না

২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩, শনিবার
কলকাতার কলেজ স্ট্রিটে একটা কফি হাউস আছে। সেখানে আজও টেবিল ঘিরে তর্ক চলে, ধোঁয়া ওঠা কাপে চুমুক পড়ে, কেউ কবিতা পড়ে, কেউ রাজনীতি নিয়ে গলা চড়ায়। কিন্তু বাঙালির কাছে কফি হাউস কেবল একটা জায়গা নয়, একটা গানও। সেই গানের কণ্ঠ থেমে গিয়েছিল ২০১৩ সালের এই দিনে।
মান্না দের প্রয়াণ (২০১৩): ১৯১৯ সালের ১ মে কলকাতায় জন্ম নিয়েছিলেন প্রবোধচন্দ্র দে। পৃথিবী তাঁকে চিনেছে মান্না দে নামে। ছয় দশকের বেশি সময় ধরে তিনি গেয়েছেন বাংলা, হিন্দিসহ নানা ভাষায়। ১৯৮৩ সালের ‘কফি হাউসের সেই আড্ডাটা’ গানে তিনি শুনিয়েছিলেন এক দল বন্ধুর গল্প। একসময় যাঁরা একই টেবিলে বসতেন, সময়ের স্রোতে তাঁরা ছড়িয়ে গেছেন নানা দিকে। কেউ সফল, কেউ হারিয়ে যাওয়া, কেউ আর নেই। শুধু টেবিলটা রয়ে গেছে আগের মতো। চার দশক পরও গানটি বাঙালির বন্ধুত্ব আর হারানোর বেদনার সবচেয়ে চেনা সুর। লতা মঙ্গেশকরের সঙ্গে তাঁর দ্বৈত গান ‘কে প্রথম কাছে এসেছি’ আজও শোনা হয় সমান আবেগে। ভারত সরকার তাঁকে পদ্মশ্রী (১৯৭১), পদ্মভূষণ (২০০৫) ও দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কারে (২০০৭) সম্মানিত করে। ২০১৩ সালের এই দিনে ৯৪ বছর বয়সে বেঙ্গালুরুর একটি হাসপাতালে তিনি মারা যান। আড্ডা থেমে যায়, কিন্তু গানটা থামে না।
বাংলা ও উপমহাদেশ
লক্ষ্মী সেহগলের জন্ম (১৯১৪): নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর আজাদ হিন্দ ফৌজে নারীদের নিয়ে গড়া ঝাঁসির রানি রেজিমেন্টের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন এই চিকিৎসক ও বিপ্লবী। তিনি “ক্যাপ্টেন লক্ষ্মী” নামে পরিচিত। ২০১২ সালে তিনি মারা যান।
মার্ক টালির জন্ম (১৯৩৫): কলকাতায় জন্ম নেওয়া এই ব্রিটিশ সাংবাদিক দীর্ঘদিন বিবিসির দিল্লি ব্যুরোর প্রধান ছিলেন। উপমহাদেশ নিয়ে তাঁর প্রতিবেদন ও বই কয়েক প্রজন্মের পাঠকের কাছে পরিচিত।
গিরিজা দেবীর প্রয়াণ (২০১৭): বেনারস ঘরানার এই শিল্পীকে বলা হতো ঠুমরির রানি। ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীতে তিনি এক যুগের প্রতীক।
ইসমত চুগতাইয়ের প্রয়াণ (১৯৯১): উর্দু কথাসাহিত্যের সাহসী কণ্ঠ এই লেখক নারীর জীবন ও সমাজের বাঁধন নিয়ে লিখে বারবার বিতর্ক আর প্রশংসা দুটিই কুড়িয়েছেন।
বিশ্ব ইতিহাস
জাতিসংঘ দিবস (১৯৪৫): দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে এই দিনে কার্যকর হয় জাতিসংঘ সনদ। দিনটি জাতিসংঘ দিবস হিসেবে পালিত হয়। স্বাধীন বাংলাদেশ ১৯৭৪ সালে জাতিসংঘের সদস্যপদ লাভ করে।
গুলিস্তান চুক্তি (১৮১৩): রুশ-পারস্য যুদ্ধের অবসান ঘটে এই চুক্তিতে। এতে ককেশাস অঞ্চলের বড় অংশ রুশ সাম্রাজ্যের হাতে ছেড়ে দেয় ইরানের কাজার রাজবংশ।




