যুক্তরাষ্ট্রে ‘নো কিংস’-এর প্রায় ৩ হাজার আয়োজন, জোর আগাম ভোটে
শনিবার যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ‘নো কিংস’ নামে প্রায় ৩ হাজার আয়োজন হয়েছে, যা ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার পর চতুর্থ কর্মসূচি। এবার বড় সমাবেশের বদলে ছোট পরিসরে ভোটারদের আগাম ভোট ও নিবন্ধন যাচাইয়ে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে; মধ্যবর্তী নির্বাচন ৩ নভেম্বর। আয়োজকেরা বলছেন, কর্মসূচি নির্দলীয়; এর উদ্দেশ্য ভোটদান ও নির্বাচন সুরক্ষা। ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা রেকর্ড নিচে নেমেছে বলে এএফপি লিখেছে; হোয়াইট হাউস আগে এ উদ্যোগকে নাকচ করেছিল। #NoKings #USPolitics #Midterms #EarlyVoting #MeehaNews

যুক্তরাষ্ট্রে শনিবার ‘নো কিংস’ (No Kings) নামের কর্মসূচির আওতায় প্রায় ৩ হাজার আয়োজন হয়েছে। ওয়াশিংটন থেকে নিউইয়র্ক ও লস অ্যাঞ্জেলেসসহ বহু শহর ও ছোট জনপদে মানুষ জড়ো হন। এএফপির বরাতে প্রথম আলো জানিয়েছে, ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফেরার পর এটি চতুর্থ ‘নো কিংস’ কর্মসূচি।
আগের তিনটির মতো বিশাল সমাবেশ এবার ছিল না। আয়োজকেরা ছোট পরিসরের অনুষ্ঠানে জোর দিয়েছেন, যেমন গাড়ির শোভাযাত্রা, সংগীতানুষ্ঠান ও জমায়েত। লক্ষ্য ছিল ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ভোটারদের আগাম ভোটে উৎসাহিত করা এবং নিবন্ধন ও ভোটদানের পদ্ধতি বুঝিয়ে দেওয়া। দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার অনুষ্ঠান নিয়ে ফক্স এলএ লিখেছে, ৫০ম এক, ইন্ডিভিজিবল, এসিএলইউ, মুভঅনসহ বিভিন্ন সংগঠন একে ‘নির্দলীয় ভোটার-অংশগ্রহণ উদ্যোগ’ হিসেবে বর্ণনা করেছে; এতে প্রার্থীর পক্ষে প্রচার ও দলীয় পরিচয় নিষিদ্ধ।
ওয়াশিংটনে ক্যাপিটলের কাছে এক সমাবেশে অংশ নেওয়া ৬৬ বছর বয়সী অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক সাবিন কার্লসন, যিনি নিজেকে ডেমোক্রেটিক সমর্থক বলে পরিচয় দিয়েছেন, বলেন, অভিযোগের চেয়ে ভোট দেওয়াই বেশি জরুরি। তাঁর মতে, ভোটারদের নিশ্চিত হতে হবে কোথায় ভোট দিতে হবে এবং তাঁদের নিবন্ধন বৈধ আছে কি না। ভোটাধিকার সংগঠন কমন কজের তৃণমূল সংগঠক আলমা কুভার্থি বলেন, মানুষ যেন ভোটকে ক্ষমতা প্রয়োগ, দায়িত্ব পালন ও তৃপ্তির উপায় হিসেবে দেখে, সেটাই লক্ষ্য।
এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কর্মসূচির সময় ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম ও জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে এবং ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা রেকর্ড নিম্নস্তরে নেমেছে; রিপাবলিকানদের কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারানোর সম্ভাবনার কথাও আলোচনায় আছে। আয়োজকেরা বলেছেন, কর্মসূচির উদ্দেশ্য ট্রাম্পের এই দাবি প্রতিরোধ করা যে তিনি আইনের ঊর্ধ্বে, যা তাঁদের মতে মার্কিন সংবিধানবিরোধী। আয়োজকেরা আরও আশঙ্কা করছেন, রিপাবলিকানরা হারলে ফলাফল চ্যালেঞ্জ বা বাধাগ্রস্ত হতে পারে। ট্রাম্প ডাকযোগে ভোটের সমালোচনা করেছেন; এ কারণেই আগাম ভোট অগ্রাধিকার পেয়েছে।
সেপ্টেম্বরে এই কর্মসূচি ঘোষণার সময় রয়টার্স জানায়, ইন্ডিভিজিবলের সহপ্রতিষ্ঠাতা এজরা লেভিন বলেছেন, ‘বার্তা পাঠানোর সময় শেষ’; লক্ষ্য ‘দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আগাম ভোট’। তখন হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র লরেন বিস কর্মসূচিকে ‘ট্রাম্প ডিরেঞ্জমেন্ট সিনড্রোম’ বলে নাকচ করেছিলেন। আজকের কর্মসূচি নিয়ে হোয়াইট হাউসের নতুন প্রতিক্রিয়া কোনো সূত্রে পাওয়া যায়নি।





