দাকোপে ঢাকী নদীর ভাঙনে বেড়িবাঁধে ধস, ঝুঁকিতে বসতবাড়ি-জমি
খুলনার দাকোপে ঢাকী নদীর ভাঙনে বটবুনিয়া ও পানখালী ইউনিয়নের খোনা এলাকায় বেড়িবাঁধের অংশ ধসে পড়েছে। ঝুঁকিতে পড়েছে বসতবাড়ি, সড়ক ও ফসলি জমি। স্থানীয় ইউপি সদস্যের দাবি, খোনায় প্রায় ১০০ মিটার সড়কের বড় অংশ ধসে গেছে। বিষয়টি পাউবোকে বারবার জানিয়েও কার্যকর পদক্ষেপ মেলেনি। স্থানীয়রা অপরিকল্পিত ও নিম্নমানের সংস্কারকাজের অভিযোগ করেছেন। এ সম্পর্কে পাউবো বা ঠিকাদারদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ইউএনও ও পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী জানিয়েছেন, ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ সংস্কার শিগগির শুরু হবে। #Dacope #Khulna #RiverErosion #Embankment #MeehaNews

খুলনার উপকূলীয় দাকোপ উপজেলায় ঢাকী নদীর ভাঙনে ওয়াপদা বেড়িবাঁধের একাধিক স্থানে ধস ও ফাটল দেখা দিয়েছে। রোববার ভোর ৬টার দিকে বটবুনিয়া এলাকায় বাঁধের একটি অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। পানখালী ইউনিয়নের খোনা এলাকায়ও একই নদীর ভাঙনে বাঁধের একটি অংশ ধসে পড়েছে। এতে ঝুঁকিতে পড়েছে বসতবাড়ি, সড়ক ও ফসলি জমি।
খোনার মোল্লাবাড়ির সামনে বাঁধের বড় অংশ ভেঙে যাওয়ায় এলাকার যোগাযোগব্যবস্থা ও আশপাশের বসতবাড়ি ঝুঁকিতে আছে। পানখালী ইউনিয়ন পরিষদের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য রাশেদুল ইসলাম বাবু বলেন, গত ২ অক্টোবর মোল্লাবাড়ির সামনে বেড়িবাঁধে ফাটল দেখা দেয়। এর মধ্যে সড়কের অর্ধেক অংশ নদীতে চলে গেছে। দাকোপের ৩১ নম্বর পোল্ডারের (polder) আওতাধীন খোনা এলাকায় প্রায় ১০০ মিটার সড়কের বড় অংশ ধসে পড়েছে বলেও জানান তিনি। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বাকি সড়কও নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাঁর অভিযোগ, বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ডকে (পাউবো) বারবার জানানো হলেও ভাঙন ঠেকাতে স্থায়ী কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দা আসাদ বলেন, প্রায় ৩০ বছর ধরে তাঁরা নদীভাঙনের শিকার হচ্ছেন। প্রতিবছর একাধিকবার বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি ঢোকে। তাঁর দাবি, ভাঙনে নিজেদের বাড়িসহ আশপাশের অনেক পরিবারের বসতভিটা ও প্রায় ৩০০ বিঘা ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। বারবার বাঁধ সংস্কার করা হলেও ভাঙন বন্ধ হচ্ছে না। বর্ষা বা জোয়ারের পানি বাড়লেই নতুন করে ভাঙনের আশঙ্কা তৈরি হয়।
খোনা ও বটবুনিয়ার বাইরেও দাকোপের নানা এলাকায় ঢাকী নদীর ভাঙন চলছে। জাবেরের খেয়াঘাট, কামিনীবাসিয়া, গড়খালী, আন্ধারমানিক, সুতারখালীর গুণারীর কালীবাড়ি লঞ্চঘাট, কালাবগী বাজার, বানীশান্তা ও তেলিরকোনা বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে বেড়িবাঁধে ফাটল ও ভাঙন দেখা দিয়েছে। দ্রুত প্রতিরোধ না হলে জনবসতি, কৃষিজমি ও যোগাযোগব্যবস্থার আরও ক্ষতির আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয়রা জানান, অমাবস্যা ও পূর্ণিমার জোয়ারে পানি বেড়ে বাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। গত বছর বটবুনিয়ায় বাঁধ ভেঙে রোপা আমন ধানখেত ও পুকুরের মাছ ভেসে যায়। এতে কৃষক ও মৎস্যচাষিরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন। ভুক্তভোগীদের দাবি, অপরিকল্পিত ও নিম্নমানের সংস্কারকাজের কারণে বারবার বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পাউবোর কর্মকর্তা ও ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগও তুলেছেন তাঁরা। এসব অভিযোগ সম্পর্কে পাউবো বা ঠিকাদারদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
দাকোপ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বোরহান উদ্দিন মিঠু জানান, পাউবোর সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ সংস্কারের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। খুলনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের বিভাগ-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাশিদুর রহমান বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো পরিদর্শন করা হয়েছে। শিগগিরই সেখানে কাজ শুরু হবে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, জরুরি ভিত্তিতে বাঁধ মেরামত করলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। ভাঙনের কারণ চিহ্নিত করে টেকসই ও পরিকল্পিত প্রতিরোধব্যবস্থা গড়ে তোলার দাবি তাঁদের।





