অতিরিক্ত ডিআইজির বাড়িতে ‘ডিজে পার্টি’, ডিবির অভিযানে আটক ৮৫
অতিরিক্ত ডিআইজি আবদুল্লাহ আল জহিরের বাড়িতে ডিবির অভিযানে ২৬ নারীসহ ৮৫ জন আটক হয়েছেন। পুরুষদের এক মাস ও নারীদের ১৫ দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ডিবির দাবি, বাড়িটি এয়ারবিএনবির মাধ্যমে ভাড়া দেওয়া হতো এবং সেখানে মাসে ১৮ থেকে ২০টি পার্টি হতো। জহিরকে পুলিশ সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে। তিনি আয়োজনের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।#Dhaka #DBPolice #PoliceAccountability #Bangladesh #MeehaNews

রাজধানীর ভাটারা থানা এলাকায় পুলিশ কর্মকর্তাদের আবাসন প্রকল্পে অতিরিক্ত ডিআইজি আবদুল্লাহ আল জহিরের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ৮৫ জন তরুণ-তরুণীকে আটক করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ডিবির দাবি, অনলাইনে ভাড়া দেওয়া বাড়িটিতে নিয়মিত ‘ডিজে পার্টি’ ও মাদক সেবনের আসর বসত। আটক ব্যক্তিদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও জরিমানা করা হয়েছে। ঘটনার পর ওই কর্মকর্তাকে পুলিশ সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে।
গত সোমবার রাতে শুরু হওয়া অভিযান চলে মঙ্গলবার পর্যন্ত। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ২৬ জন নারী ও ৫৯ জন পুরুষ। তাঁদের বেশির ভাগ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কর্মী। ডিবির উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার ইলিয়াস কবির সাংবাদিকদের জানান, পুরুষদের এক মাসের কারাদণ্ড ও এক হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে, আর নারীদের ১৫ দিনের কারাদণ্ড ও ৫০০ টাকা জরিমানা। ডিবি জানিয়েছে, অভিযানে বিদেশি মদ, ইয়াবা, ইয়াবা সেবনের সরঞ্জাম ও ‘কুশ’ নামের মাদক জব্দ করা হয়।
পুলিশের দেওয়া আটক ব্যক্তিদের তালিকা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, তাঁদের সবচেয়ে বড় অংশ শিক্ষার্থী, ২৯ জন। এর মধ্যে নারী ৮ জন, পুরুষ ২১ জন। চাকরিজীবী ২৩ জন: নারী ৭, পুরুষ ১৬। তাঁরা ব্যাংক, বহুজাতিক কোম্পানি, বিজ্ঞাপনী সংস্থা, সফটওয়্যার ও ভ্রমণ প্রতিষ্ঠানে কর্মরত। উদ্যোক্তা, কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও ফ্রিল্যান্সার ৬ জন: নারী ৪, পুরুষ ২। পড়াশোনা শেষ করে বা বিরতিতে থেকে কোনো কাজে যুক্ত নন, এমন ৯ জন: নারী ৬, পুরুষ ৩। বাকি ১৮ জনের পেশা তালিকায় উল্লেখ নেই।
বয়সের হিসাবে আটক ব্যক্তিদের বড় অংশ ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে। ৮০ জনের বয়স তালিকায় আছে। তাঁদের মধ্যে ১৯–২০ বছর বয়সী ৫ জন, ২১–২৫ বছরের ৩০ জন, ২৬–৩০ বছরের ৪১ জন এবং ৩০ বছরের বেশি ৪ জন। নারীদের বয়স ১৯ থেকে ৩০ বছর, পুরুষদের ১৯ থেকে ৩৮ বছর। দুই ক্ষেত্রেই মধ্যমা বয়স ২৬ বছর।
টেবিল (ওয়েবে আলাদা বক্স হিসেবে)
আটক ৮৫ জন: পেশা অনুযায়ী
| পেশা | নারী | পুরুষ | মোট |
|---|---|---|---|
| শিক্ষার্থী | ৮ | ২১ | ২৯ |
| চাকরিজীবী | ৭ | ১৬ | ২৩ |
| উদ্যোক্তা/কনটেন্ট ক্রিয়েটর/ফ্রিল্যান্সার/ব্যবসা | ৪ | ২ | ৬ |
| পড়াশোনা শেষ বা বিরতিতে, কর্মহীন | ৬ | ৩ | ৯ |
| পেশা উল্লেখ নেই | ১ | ১৭ | ১৮ |
| মোট | ২৬ | ৫৯ | ৮৫ |
আটক ৮৫ জন: বয়স অনুযায়ী
| বয়স | নারী | পুরুষ | মোট |
|---|---|---|---|
| ১৯–২০ বছর | ২ | ৩ | ৫ |
| ২১–২৫ বছর | ১০ | ২০ | ৩০ |
| ২৬–৩০ বছর | ১৩ | ২৮ | ৪১ |
| ৩০ বছরের বেশি | ০ | ৪ | ৪ |
| বয়স উল্লেখ নেই | ১ | ৪ | ৫ |
| মোট | ২৬ | ৫৯ | ৮৫ |
সূত্র: পুলিশের দেওয়া আটক ব্যক্তিদের তালিকা থেকে মিহা নিউজের বিশ্লেষণ। পেশা আটক ব্যক্তিদের নিজেদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে কর্মরত এক ব্রিগেডিয়ার জেনারেলের ছেলেও ছিলেন। তাঁকে সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
ডিবির ভাষ্য অনুযায়ী, তিনতলা বাড়িটি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম এয়ারবিএনবির (Airbnb) মাধ্যমে ভাড়া দেওয়া হতো। বাড়িটি দেখাশোনা করতেন মাহবুবুল আলম নামের এক ব্যক্তি। সোমবারের আয়োজনে তিনি ‘কো-হোস্ট’ ছিলেন, তাঁকেও আটক করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ডিবিকে জানিয়েছেন, বাড়ির পাঁচটি কক্ষের প্রতিটি ১০ জনের জন্য ১৮ হাজার ৫০০ টাকায় ভাড়া দেওয়া হতো। ১০ জনের বেশি হলে প্রত্যেকের কাছ থেকে বাড়তি ৬০০ টাকা নেওয়া হতো। ভাড়ার ৭০ শতাংশ পেতেন অতিরিক্ত ডিআইজি জহির।
উপকমিশনার ইলিয়াস কবির বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছ থেকে পাওয়া গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়। তাঁর দাবি, বাড়িটিতে দুপুর ১২টা থেকে পরদিন সকাল পর্যন্ত পার্টি চলত। মাসে ১৮ থেকে ২০টি আয়োজন হতো, প্রতিটি থেকে প্রায় এক লাখ টাকা ভাড়া আদায় হতো। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আবাসন প্রকল্পে থাকা পুলিশ কর্মকর্তাদের পরিবারের সদস্যরা উচ্চ শব্দে গানবাজনা নিয়ে আগেই ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের কাছে অভিযোগ করেছিলেন।
অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অতিরিক্ত ডিআইজি আবদুল্লাহ আল জহির। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোরকে তিনি বলেন, আয়োজনগুলো তিনি করেননি, মাহবুবুল আলমই সব দেখভাল করতেন। কোনো নিয়মভঙ্গ হলে সঙ্গে সঙ্গে জানাতে তিনি মাহবুবুলকে বলে রেখেছিলেন। ভাড়ার ৭০ শতাংশ তিনি পান বাড়িভাড়া হিসেবে। তাঁর দাবি, সেদিন ৩৫ থেকে ৪০ জন অতিথি আসার কথা ছিল।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জহির ২৪তম বিসিএসের কর্মকর্তা। মঙ্গলবার বিকেলে তাঁকে পুলিশ সদর দপ্তরে সংযুক্ত করার আদেশ জারি হয়। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর জানিয়েছে, এ ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে কোনো মামলা হয়নি।





