মূল কনটেন্টে যান
বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬১২ কার্তিক ১৪৩৩
বুধবার ২৮ অক্টোবর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ১৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
অনুসন্ধানী ও সর্বশেষ বাংলা সংবাদ
সংস্কৃতি ও লোকসংস্কৃতি

পল্টনের রক্তাক্ত শনিবার

২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর ঢাকার পল্টনে সংঘর্ষ
২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর, পল্টন, ঢাকা। ফাইল ছবি

শনিবার সকাল। বায়তুল মোকাররমের উত্তর ফটকের সামনে মঞ্চ বাঁধার কাজ চলছিল। দিনটি ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর, বিএনপি-জামায়াত চারদলীয় জোট সরকারের মেয়াদের শেষ দিন। আমার দেশের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেখানে জামায়াতে ইসলামীর সমাবেশের প্রস্তুতি চলছিল, প্রধান অতিথি তৎকালীন আমির ও শিল্পমন্ত্রী মতিউর রহমান নিজামী। দুপুর গড়ানোর আগেই সেই চত্বর হয়ে ওঠে বাংলাদেশের রাজনীতির অন্যতম রক্তাক্ত ময়দান।

পটভূমি ছিল তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা পদ নিয়ে বিরোধ। বিদায়ী সরকারের পছন্দ ছিলেন সাবেক প্রধান বিচারপতি কে এম হাসান। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের অভিযোগ ছিল, তিনি নিরপেক্ষ নন। এই দাবিতে লগি আর বৈঠা হাতে মাঠে নামেন দলটির কর্মীরা। পরে সেই আন্দোলন পরিচিতি পায় ‘লগি-বৈঠা আন্দোলন’ নামে।

আমার দেশের বিবরণ অনুযায়ী, সেদিন ১৪ দলের কর্মীরা লগি-বৈঠা, লোহার রড ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে জামায়াতের সমাবেশস্থলে হামলা চালান। লক্ষ্য ছিলেন জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মী, এমনকি পথচারীরাও। উইকিপিডিয়ায়ও সেদিনের সহিংসতা আওয়ামী লীগ সমর্থকদের নেতৃত্বে হয়েছিল বলে উল্লেখ আছে। হামলার মুখে জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা প্রতিরোধের চেষ্টা করলে পল্টন ও আশপাশের এলাকায় সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে।

প্রকাশ্য রাস্তায় লগি আর লাঠির আঘাতে মানুষ পিটিয়ে মারার দৃশ্য সেদিন ক্যামেরায় ধরা পড়ে। সেই ছবি দেশজুড়ে আলোড়ন তোলে। জামায়াতের অভিযোগ, হামলাকারীরা নিহতদের লাশের ওপর উল্লাস করেছিল।

নিহতের সংখ্যা নিয়ে সূত্রভেদে তারতম্য আছে:

  • প্রথম আলো: ঢাকায় জামায়াতের চার কর্মী আর ১৪ দলের শরিক ওয়ার্কার্স পার্টির একজন কর্মী নিহত হন। সেদিন সারা দেশে নিহত হন ১১ জন।

  • উইকিপিডিয়া: দিনটিতে অন্তত ১২ জনের মৃত্যু হয়।

  • জামায়াতের দাবি: ঢাকাসহ সারা দেশে দলটির ১৪ জন নেতাকর্মী নিহত হন, আহত হন হাজারের বেশি।

জামায়াত তাঁদের শহীদ হিসেবে স্মরণ করে। পল্টনে নিহতদের একজন সাইফুল্লাহ মোহাম্মদ মাসুম। আমার দেশ জানিয়েছে, তাঁর মা শামসুন্নাহার আজও ছেলে হত্যার বিচারের অপেক্ষায়।

সেই বিচার আজও হয়নি। আমার দেশের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনায় মামলা হয়েছিল, কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকার পরে রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে তা প্রত্যাহার করে নেয়। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে মামলাটি পুনরুজ্জীবনের চেষ্টা হলেও সফল হয়নি। জামায়াত এখন নতুন করে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। হত্যার নির্দেশ ও অস্ত্র সরবরাহ নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে জামায়াতের অভিযোগ আদালতে এখনো প্রমাণিত হয়নি।

দিনটির রাজনৈতিক অভিঘাত ছিল গভীর। সহিংসতার মুখে কে এম হাসান প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব নিতে অস্বীকৃতি জানান। রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ নিজেই সেই দায়িত্ব নেন। সংকট গড়ায় ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত, সেদিন জারি হয় জরুরি অবস্থা।

কুড়ি বছর পেরিয়েছে। পল্টনের সেই রাস্তায় এখন আবার যানজট, ফেরিওয়ালার হাঁকডাক। তবু প্রতিবছর ২৮ অক্টোবর এলে বাংলাদেশের রাজনীতিকে মনে করিয়ে দেয়, ক্ষমতার লড়াই রাজপথে নামলে প্রথম দাম দেয় সাধারণ কর্মীর প্রাণ, আর বিচারহীনতার ক্ষত শুকায় না।


ইতিহাসে আজকের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা

২০২৩ | নয়াপল্টনে বিএনপির মহাসমাবেশ ঘিরে সংঘর্ষ
নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে এদিন, আরেক শনিবারে, ঢাকার নয়াপল্টনে মহাসমাবেশ করে বিএনপি। সমাবেশ চলাকালে পুলিশের সঙ্গে দলটির নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ হয়, মাঝপথে পণ্ড হয়ে যায় সমাবেশ। সংঘর্ষে এক পুলিশ সদস্য নিহত হন, আহত হন শতাধিক মানুষ। পুলিশের অভিযোগ, বিএনপির কর্মীরা পুলিশ সদস্যকে পিটিয়ে হত্যা করেন এবং প্রধান বিচারপতির বাসভবনে হামলা চালান। বিএনপির দাবি, শান্তিপূর্ণ সমাবেশে পুলিশই রাবার বুলেট, সাউন্ড গ্রেনেড ও কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে হামলা করে। পরদিন দেশজুড়ে হরতাল ডাকে বিএনপি, আর ২৯ অক্টোবর গ্রেপ্তার হন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

লেখাটি হৃদয় ছুঁয়ে গেলে জানান

এই প্রতিবেদনে কোনো তথ্যগত ভুল চোখে পড়লে সংশোধনী নীতি অনুযায়ী আমাদের জানান।

মন্তব্য

মন্তব্য দেখতে বা লিখতে চাপ দিন। মন্তব্য সম্পাদকীয় নীতিমালা মেনে প্রকাশ হয়।

মিহা স্পেশাল

আজ

বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ১৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

পাঠের রং

এখন যা বেশি খোঁজা হচ্ছে

যেকোনো পাতায় / চাপলেই খোঁজ খুলবে। ফলাফলে বিভাগ, তারিখ ও ধরন দিয়ে ছাঁকতে পারবেন।