শেষ পর্যন্ত যে তোরে পাইলো
শেষ পর্যন্ত যে তোরে পাইলো
সে তোর জিদ বুঝলো না।
বুঝলো না, তুই অভিমানেও কীভাবে হাসিস।
রাগ হইলে তুই কাজে ব্যস্ত হয়ে যাস,
কথা বলতে চাস না,
মেঘ জমলে যেমন চুপসে যায় দুপুর।
শেষ পর্যন্ত যে তোরে পাইলো
সে কি জানে, তুই আদুরে ঝগড়াটে,
তোর ঝগড়ায় ভালোবাসা ছাড়া
কোনো ঘৃণা-অহংকার থাকে না?
শীতের রোদের মতো, উষ্ণ।
তোর যখন ঝগড়ার মুড হয়,
তখন কি সে তোরে পাত্তা দেয়
আমার মতো?
শেষ পর্যন্ত যে তোরে পাইলো
সে কি জানে তোর ভোজন-রসিকতা?
জানে, পাশের বিল কিংবা গ্রামে একটু ঘুরতে গেলেই
তোর মন পাওয়া যায়?
জানে কি, বাজার থেকে আচার না এনে
কারো গাছ থেকে জলপাই পেড়ে দিলে
তুই কত খুশি হস,
চৈত্রের ফাটা মাঠ যেমন খুশি হয় প্রথম বৃষ্টিতে?
পথের পাশের বেলী ফুল,
সূর্যমুখী, সর্ষে ফুলের মাঠ,
এইগুলাই তো তোর গয়না।
সে কি বসে সর্ষে মাঠে
কিংবা পুকুরপাড়ে বেলীফুলের গন্ধে
দেখে কি জলের নিচে চাঁদ
আর তোর ফর্সা মুখ?
শেষ পর্যন্ত যারে তুই পছন্দ করে গেলি,
সে কি আমার মতো তোর পছন্দকে ভালোবাসে?
তোর পছন্দ ভাগাভাগি করে
আমার মতো?
শেষ পর্যন্ত যার কাছে গেলি,
সেই যাওয়াই শেষ যাওয়া,
আর ফিইরাও তাকাইলি না।
আমি যে একটা মানুষ
তোর প্রেমে, তোর পছন্দে জড়ায়ে গেলাম,
তার খবর নিলি না।
অনেক দিন ভাবছি তোরে নিয়ে লিখব।
কিন্তু শেষ পর্যন্ত যে তোরে পাইলো,
সে কি তোরে নিয়ে লেখে?
সে কি লেখে, ঘুমালে তোরে নিষ্পাপ দেখায়
ঠিক ছোট্ট বেবির মতো?
তোর চুল কি আঁচড়ে দেয়
আলতো স্পর্শে?
শেষ পর্যন্ত যে তোরে পাইলো,
সে কি তোরে পাইলো?
নাকি পেয়েও তোরে বুঝতে পারলো না?
মনে হচ্ছে কত বছর দেখি না।
আচ্ছা, সে তো তোরে প্রতিদিন দেখে।
তোরে দেখে কি খুলে বসে কবিতার খাতা,
প্রশংসার ফিরিস্তি?
নাকি পুরাতন প্রেমিকার জন্য লেখাই
তার শেষ ডায়েরি?
শেষ পর্যন্ত যে তোরে পাইলো,
সে কি সুখী হইলো,
নাকি তোরে সুখী বানাইলো?

