মূল কনটেন্টে যান
সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬১০ কার্তিক ১৪৩৩
সোমবার ২৬ অক্টোবর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ ১০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ১৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
অনুসন্ধানী ও সর্বশেষ বাংলা সংবাদ
সংস্কৃতি ও লোকসংস্কৃতি

ঋণের শিকল ভাঙা বাঘ

শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক
শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক (১৮৭৩–১৯৬২)। ফাইল ছবি

কার্তিকের ভোর। বাকেরগঞ্জের দক্ষিণে সাতুরিয়া গ্রামের মিয়াবাড়িতে ধানের গন্ধ মেশানো কুয়াশা। ১৮৭৩ সালের ২৬ অক্টোবর এই বাড়িতে, মামার ঘরে জন্ম নিল এক শিশু। পরে সারা বাংলা তাঁকে চিনবে ‘শেরেবাংলা’ নামে। কৃষকের কাছে তিনি হবেন আপনজন ‘হক সাহেব’।

আবুল কাসেম ফজলুল হকের পৈতৃক ভিটা বরিশাল শহর থেকে ১৪ মাইল দূরের চাখারে। বাবা কাজী মুহম্মদ ওয়াজেদ বরিশাল বারের আইনজীবী। বরিশাল জিলা স্কুল পেরিয়ে কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজ। ১৮৯৬ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গণিতে এমএ, পরের বছর আইনের ডিগ্রি। বাংলাপিডিয়ার তথ্যমতে, ১৯০৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর ঢাকায় নিখিল ভারত মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠায় তিনি ভূমিকা রাখেন। ১৯১৬ থেকে ১৯২১ সাল পর্যন্ত ছিলেন দলটির সভাপতি।

তবে ফজলুল হকের আসল শক্তি ছিল বাংলার মাটি আর লাঙল। বাংলার কৃষক তখন মহাজনের ঋণে বাঁধা, জমিদারের খাজনায় নুয়ে পড়া। তাঁদের জন্য তিনি গড়লেন কৃষক প্রজা পার্টি। ১৯৩৭ সালের ১ এপ্রিল তিনি হলেন বাংলার প্রথম প্রধানমন্ত্রী (প্রিমিয়ার)। পরের বছর, ১৯৩৮ সালে, তাঁর সরকার তিনটি আইন করে:

  • বঙ্গীয় কৃষি খাতক আইন (Bengal Agricultural Debtors’ Act)

  • মহাজনি আইন (Money Lenders’ Act)

  • বঙ্গীয় প্রজাস্বত্ব (সংশোধনী) আইন

জেলায় জেলায় বসল ঋণ সালিশি বোর্ড (Debt Settlement Board)। যে শিকলে প্রজন্মের পর প্রজন্ম বাঁধা ছিল, তাতে প্রথমবার রাষ্ট্রীয় হাতুড়ির ঘা পড়ল।

১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ লাহোরে মুসলিম লীগের অধিবেশন। মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ প্রস্তাব উত্থাপনের ভার দিলেন বাংলার এই নেতাকে। ফজলুল হকের কণ্ঠে উঠল লাহোর প্রস্তাব, উপমহাদেশের মুসলমানদের স্বতন্ত্র রাষ্ট্রভাবনার মাইলফলক।

শিক্ষাকে তিনি দেখতেন মুক্তির দরজা হিসেবে। মুসলমান ছাত্রছাত্রীদের জন্য কলকাতায় ইসলামিয়া কলেজ আর লেডি ব্রেবোর্ন কলেজ গড়ায় তিনি যুক্ত ছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হল আজও তাঁর নাম বহন করে।

ঔপনিবেশিক যুগ পেরিয়ে পাকিস্তানেও তিনি থামেননি। ১৯৫৪ সালে মওলানা ভাসানী আর হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর সঙ্গে গড়লেন যুক্তফ্রন্ট (United Front)। নির্বাচনে ভূমিধস জয়ে হলেন পূর্ববঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী, যদিও সেই সরকার টিকেছিল মাত্র দুই মাস। পরে ১৯৫৬ থেকে ১৯৫৮ সাল পর্যন্ত ছিলেন পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর।

১৯৬২ সালের ২৭ এপ্রিল ঢাকায় তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর শেষশয্যা ঢাকার তিন নেতার মাজারে।

দেড় শতাব্দী পেরিয়েছে। তবু আজও যখন কোনো কৃষক ঋণের বোঝায় মাথা নোয়ান, বাংলা মনে করে সাতুরিয়ার সেই কার্তিকের ভোরে জন্ম নেওয়া বাঘকে, যিনি গর্জন তুলেছিলেন লাঙলের মানুষের হয়ে।


ইতিহাসে আজকের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা

১৯৩৪ | মেদিনীপুরে বিপ্লবী নির্মলজীবন ঘোষের ফাঁসি
ব্রিটিশবিরোধী সশস্ত্র সংগঠন বেঙ্গল ভলান্টিয়ার্সের সদস্য নির্মলজীবন ঘোষকে এদিন মেদিনীপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে ফাঁসি দেওয়া হয়। ১৯৩৩ সালে মেদিনীপুরের জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বার্নার্ড বার্জ হত্যার দায়ে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। এর আগের দিন একই মামলায় ফাঁসি হয়েছিল ব্রজকিশোর চক্রবর্তী ও রামকৃষ্ণ রায়ের।

১৯৪৬ | অন্তর্বর্তী সরকারে মুসলিম লীগ
এদিন ভারতের অন্তর্বর্তী সরকারে যোগ দেয় নিখিল ভারত মুসলিম লীগ। দলের পাঁচ মনোনীত সদস্যের মধ্যে লিয়াকত আলী খান পান অর্থ দপ্তর। বরিশালের নেতা যোগেন্দ্রনাথ মণ্ডল পান আইন দপ্তর। এ সরকারের ভেতরের টানাপোড়েনই পরের বছরের দেশভাগের দিকে রাজনীতিকে আরও এগিয়ে দেয়।

১৯৭১ | কসবায় তীব্র লড়াই
মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের তথ্য অনুযায়ী, এদিন কুমিল্লার কসবা এলাকা এবং কাইয়ুমপুর, সালদা নদী, নয়নপুর ও চৌদ্দগ্রামে মুক্তিবাহিনী ও পাকিস্তানি বাহিনীর মধ্যে তীব্র লড়াই হয়। সিলেট, ময়মনসিংহ, রংপুর, বগুড়া ও যশোর সীমান্তেও যুদ্ধ চলে। মুজিবনগরে আওয়ামী লীগের ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে ঘোষণা করা হয়, পূর্ণ স্বাধীনতাই বাংলাদেশ প্রশ্নের একমাত্র সমাধান।

লেখাটি হৃদয় ছুঁয়ে গেলে জানান

এই প্রতিবেদনে কোনো তথ্যগত ভুল চোখে পড়লে সংশোধনী নীতি অনুযায়ী আমাদের জানান।

মন্তব্য

মন্তব্য দেখতে বা লিখতে চাপ দিন। মন্তব্য সম্পাদকীয় নীতিমালা মেনে প্রকাশ হয়।

মিহা স্পেশাল

আজ

সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬১০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ১৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

পাঠের রং

এখন যা বেশি খোঁজা হচ্ছে

যেকোনো পাতায় / চাপলেই খোঁজ খুলবে। ফলাফলে বিভাগ, তারিখ ও ধরন দিয়ে ছাঁকতে পারবেন।