মূল কনটেন্টে যান
সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬৩ কার্তিক ১৪৩৩
সোমবার ১৯ অক্টোবর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
অনুসন্ধানী ও সর্বশেষ বাংলা সংবাদ
ব্রেকিং

পদত্যাগের নির্দেশকে “গুজব” বলার কয়েক ঘণ্টা পর পদত্যাগের ঘোষণা দিচ্ছেন ইশরাক

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন আজ সোমবার দুপুর ২টায় জাতীয় প্রেসক্লাবে পদত্যাগের চূড়ান্ত ঘোষণা দেবেন বলে ফেসবুকে জানিয়েছেন। রোববার রাতে প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ-নির্দেশের খবরকে তিনি নিজে "গুজব" বলেছিলেন। তাঁর প্রেস অফিসারও খবরটিকে "সম্পূর্ণ অসত্য" বলেছিলেন। শনিবার গেন্ডারিয়ায় পিস্তল হাতে মাদকবিরোধী অভিযানের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। ঘটনাটি খতিয়ে দেখছে ঢাকা মহানগর পুলিশ। #IshraqueHossain #Bangladesh #BNP #CabinetResignation #MeehaNews

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন। ফাইল ছবি

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন আজ সোমবার দুপুর ২টায় জাতীয় প্রেসক্লাবে পদত্যাগের চূড়ান্ত ঘোষণা দেবেন। সেখানে তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবও দেবেন। সকাল সাড়ে আটটার পর নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ কথা জানান।

অথচ কয়েক ঘণ্টা আগে, রোববার রাতে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁকে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন বলে খবর প্রকাশিত হয়েছিল। ইশরাক নিজেই সেই খবরকে গুজব বলেছিলেন। মানবজমিনের খবর অনুযায়ী, গণমাধ্যমে পাঠানো এক অডিও বার্তায় তিনি বলেন, “পদত্যাগ করার নির্দেশের খবরটি গুজব। এর কোনো সত্যতা নেই।” তাঁর প্রেস অফিসার মাহফুজ কবির মুক্তা লিখিত বিবৃতিতে ওই খবরকে “সম্পূর্ণ অসত্য, ভিত্তিহীন, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত” আখ্যা দেন। বিবৃতিতে দাবি করা হয়, সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে পদত্যাগের কোনো নির্দেশ আসেনি এবং পদত্যাগের প্রশ্নই ওঠে না। একটি মহল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে বলেও অভিযোগ করা হয়। খবর প্রত্যাহার না করলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়।

সরকারের একাধিক সূত্রের বরাতে কয়েকটি গণমাধ্যম জানিয়েছিল, রোববার বিকেলে সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রী ইশরাককে ডেকে পদত্যাগ করতে বলেন। দ্য ডেইলি স্টারের তথ্যমতে, রাত ১০টা ৩৪ মিনিটে বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) এই নির্দেশের খবর স্ক্রলে প্রচার করে এবং কিছুক্ষণ পর তা সরিয়ে নেয়। রাত ১১টা ২২ মিনিটে বিটিভিতেই ইশরাকের বরাতে খবরটিকে “সম্পূর্ণ অসত্য” বলে স্ক্রল যায়। রাত সাড়ে ১২টার দিকে ফেসবুকে ইশরাক লেখেন, প্রধানমন্ত্রীর কোনো নির্দেশ মন্ত্রিসভার সদস্যের কাছে পৌঁছালে তা মানতে হয়। এমন সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে তিনি দ্রুত সংবাদ সম্মেলন করে জানাবেন বলেও লেখেন। এ বিষয়ে সরকারিভাবে কোনো ঘোষণা আসেনি। মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি ডেইলি স্টারকে বলেন, এ বিষয়ে তাঁর কোনো মন্তব্য নেই।

আজকের পোস্টে ইশরাক পদত্যাগের কারণ উল্লেখ করেননি। তিনি লিখেছেন, ফেসবুকে কিছু “সুশীল” মানুষকে উল্লাস করতে দেখেছেন। ভবিষ্যতে আন্দোলনের প্রয়োজন হলে তাঁরা বিদেশ থেকে ফিরে তাতে যোগ দেবেন বলে তিনি আশা করেন। সংসদ সদস্য বা মন্ত্রী হিসেবে নয়, একজন বিএনপি কর্মী হিসেবে তিনি মাদকের বিরুদ্ধে আরও জোরালো প্রচার চালাবেন বলে জানান। পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি জোরদার করা এবং প্রজন্ম দলের সাংগঠনিক শক্তি বাড়াতে জেলায় জেলায় সফরের কথাও বলেন। পোস্টটি শেষ হয় মাদক নির্মূলের স্লোগান দিয়ে।

বিতর্কের শুরু শনিবার। সেদিন পুরান ঢাকার গেন্ডারিয়া রেলস্টেশনের কাছে দয়াগঞ্জ ঘুন্টিঘর রেলক্রসিং এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান চলে। সেখানে ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাককে এক হাতে পিস্তল ও অন্য হাতে হ্যান্ডমাইক নিয়ে কয়েকজনকে ধাওয়া করতে দেখা যায়। তাঁর ফেসবুক পেজে প্রকাশিত ভিডিওতে তাঁর এক দেহরক্ষীকে এক তরুণকে লাথি মারতে দেখা যায়। তাঁর সঙ্গে থাকা একজনকে গুলি করার হুমকি দিতেও শোনা যায়। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। জামায়াতে ইসলামী ঘটনাটিকে বেআইনি ও শপথ ভঙ্গ বলে নিন্দা জানায়।

ইশরাকের দপ্তরের দাবি, উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে তিনি আত্মরক্ষার জন্য বৈধ লাইসেন্সের অস্ত্র প্রদর্শন করেছেন। দপ্তর বলছে, তিনি গুলি করেননি বা কাউকে হুমকি দেননি। ইশরাক ডেইলি স্টারকে বলেন, গেন্ডারিয়া থানা-পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে অভিযানটি চালানো হয়। তাঁর ভাষ্যমতে, অভিযানে চার-পাঁচটি মাদকের আস্তানা বন্ধ করা হয় এবং ছয়জন সন্দেহভাজন মাদক কারবারিকে আটক করা হয়। গণমাধ্যম ঘটনাটি অতিরঞ্জিত করেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

আইন লঙ্ঘন হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে ঢাকা মহানগর পুলিশের ওয়ারী বিভাগের উপকমিশনারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ২০২৫ সালের আগ্নেয়াস্ত্র লাইসেন্স নীতিমালা অনুযায়ী, আত্মরক্ষার জন্য লাইসেন্স করা অস্ত্র বহন করা যায়। তবে ভীতি বা বিরক্তি সৃষ্টি করে এমনভাবে তা প্রদর্শন করা যায় না। সংবিধানের ৫৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো মন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিলে তাঁর পদ শূন্য হয়।

প্রতিবেদনটি আপনার কাছে কেমন লাগল?

অনলাইন ডেস্ক

মিহা নিউজ

এই প্রতিবেদনে কোনো তথ্যগত ভুল চোখে পড়লে সংশোধনী নীতি অনুযায়ী আমাদের জানান।

মন্তব্য (১)

মন্তব্য দেখতে বা লিখতে চাপ দিন। মন্তব্য সম্পাদকীয় নীতিমালা মেনে প্রকাশ হয়।

আজ

সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

পাঠের রং

এখন যা বেশি খোঁজা হচ্ছে

যেকোনো পাতায় / চাপলেই খোঁজ খুলবে। ফলাফলে বিভাগ, তারিখ ও ধরন দিয়ে ছাঁকতে পারবেন।