মূল কনটেন্টে যান
বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬২৯ আশ্বিন ১৪৩৩
বুধবার ১৪ অক্টোবর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
অনুসন্ধানী ও সর্বশেষ বাংলা সংবাদ
সর্বশেষ

বিপুল প্রতিরক্ষা ব্যয়েও হুথি হামলা ঠেকাতে হিমশিম সৌদি

সিপ্রির হিসাবে ২০২৫ সালে সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা ব্যয় ছিল প্রায় ৮ হাজার ৩০০ কোটি ডলার। তবু হুথিদের হামলা পুরোপুরি ঠেকানো যাচ্ছে না। সিএনএনের বিশ্লেষণে বড় ভূখণ্ড, একাধিক দিক থেকে হুমকি, কম সময়ে শনাক্ত করার চ্যালেঞ্জ ও হুথিদের বদলে যাওয়া কৌশলকে কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছে। ১৩ অক্টোবর ধাহরানে আরামকোর প্রশাসনিক ভবনে হামলা হয়েছে। সৌদি কর্তৃপক্ষ আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার কথা ও হতাহত না হওয়ার কথা জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, সামরিক অভিযান বাড়ানো ও রাজনৈতিক সমঝোতা—দুই পথেই ঝুঁকি আছে। #SaudiArabia #Houthi #YemenConflict #MiddleEast #MeehaNews

বিপুল প্রতিরক্ষা ব্যয়েও হুথি হামলা ঠেকাতে হিমশিম সৌদি

গত বছর প্রতিরক্ষায় প্রায় ৮ হাজার ৩০০ কোটি ডলার ব্যয় করেও ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা পুরোপুরি ঠেকাতে পারছে না সৌদি আরব। স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (সিপ্রি) এই হিসাব উল্লেখ করে বিষয়টি নিয়ে বিশ্লেষণ প্রকাশ করেছে সিএনএন।

সর্বশেষ হামলা হয়েছে মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর)। পূর্বাঞ্চলীয় শহর ধাহরানে রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর একটি প্রশাসনিক ভবনে আঘাত হানে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন। সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা গেছে এবং হতাহতের খবর নেই। রিয়াদের দিকে ছোড়া দুটি ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই ধ্বংস করা হলেও সেগুলোর টুকরো পড়ে চারজন আহত এবং ১৫টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে সৌদি বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগ।

সিএনএনের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের বিশাল ভূখণ্ড ও একাধিক দিক থেকে আসা হুমকিই প্রতিরক্ষাকে কঠিন করছে। পূর্বে ইরান, উত্তরে ইরান-সমর্থিত ইরাকি সশস্ত্র গোষ্ঠী এবং দক্ষিণে হুথিরা। বিমানবন্দর, জ্বালানি স্থাপনা ও পানি সরবরাহব্যবস্থার মতো বহু স্থাপনা একসঙ্গে রক্ষা করতে হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করে প্রতিহত করার সময় খুব কম। সীমিত প্রতিরক্ষাব্যবস্থা কোথায় বসবে, সেই সিদ্ধান্তও কঠিন।

হুথিরা ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের সঙ্গে দূরপাল্লার ড্রোন ব্যবহার করছে। নিচু দিয়ে উড়ে আসা ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করা কঠিন। গতিপথ বদলাতে পারে, এমন নতুন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের দাবিও করেছে তারা। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ইরানের প্রযুক্তি ও সহায়তা এতে ভূমিকা রেখেছে। জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা আগে ইয়েমেনে ইরানি উৎসের ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ শনাক্ত করেছিলেন। হুথিদের হেতেম-২ ও প্যালেস্টাইন-২ ক্ষেপণাস্ত্রের নকশার সঙ্গে ইরানি অস্ত্রের মিলও রয়েছে। তবে বিশ্লেষকেরা বলছেন, ইরানের ঘনিষ্ঠ হলেও হুথিদের নিজস্ব লক্ষ্য আছে। ২০১৫ থেকে ২০২২ সালের সংঘাতের পর অবরোধ নিয়ে বিরোধ রয়ে গেছে। সৌদি বিমান হামলা বন্ধ ও ক্ষতিপূরণ আদায়ের দাবিতে হুথিরা হামলা বাড়িয়েছে। ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের হামলার জবাব হিসেবেই সাম্প্রতিক হামলা চালানো হচ্ছে বলে হুথিদের ভাষ্য।

সৌদি আরব সহায়তা চাইছে মিত্রদের কাছে। পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরী সিএনএনকে নিশ্চিত করেছেন, মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় সৌদিতে পাকিস্তানি সেনা মোতায়েন আছে। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মে মাসে প্রায় ৮ হাজার সেনা, এক স্কোয়াড্রন জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমান ও একটি আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা পাঠিয়েছিল ইসলামাবাদ। সেনাবাহিনীর মুখপাত্র বলেছেন, তাঁরা প্রতিরক্ষামূলক কার্যক্রমে আছেন, হুথিদের বিরুদ্ধে সৌদি আক্রমণাত্মক অভিযানে নেই। ৫ অক্টোবর রিয়াদে বৈঠকে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান যৌথ প্রতিরক্ষা প্রতিশ্রুতি কার্যকরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

ইসরায়েলি সংবাদপত্র হারেৎজ কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, হুথিবিরোধী অভিযানে যুক্ত হতে চেয়ে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় প্রস্তাব পাঠান। সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান তা নাকচ করেন। সৌদি আরবের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য মেলেনি। যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভান্ডারেও ঘাটতি আছে, আর ওয়াশিংটন হুথিদের বিরুদ্ধে নতুন হামলায় জড়াতে সতর্ক বলে সিএনএনের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে।

স্থল অভিযানে হুথিদের পরাজিত করাও সহজ নয়। ইয়েমেনের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় তারা সুসংগঠিত। যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে আগের বিমান অভিযানেও তাদের পুরোপুরি নিষ্ক্রিয় করা যায়নি। বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি আরবের সামনে দুটি পথ: পাল্টা হামলা বাড়িয়ে ঝুঁকি নেওয়া, অথবা সমঝোতায় গিয়ে হুথিদের শক্ত অবস্থান মেনে নেওয়া। প্রথমটিতে অর্থনীতি ও বেসামরিক নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়ে। দ্বিতীয়টিতে মোহাম্মদ বিন সালমানের অর্থনৈতিক রূপান্তর পরিকল্পনার জন্যও চাপ থেকে যায়।

প্রতিবেদনটি আপনার কাছে কেমন লাগল?

আন্তর্জাতিক ডেক্স

মিহা নিউজ

এই প্রতিবেদনে কোনো তথ্যগত ভুল চোখে পড়লে সংশোধনী নীতি অনুযায়ী আমাদের জানান।

মন্তব্য

মন্তব্য দেখতে বা লিখতে চাপ দিন। মন্তব্য সম্পাদকীয় নীতিমালা মেনে প্রকাশ হয়।

সারাংশ

বিপুল প্রতিরক্ষা ব্যয়েও হুথি হামলা ঠেকাতে হিমশিম সৌদি

সিপ্রির হিসাবে ২০২৫ সালে সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা ব্যয় ছিল প্রায় ৮ হাজার ৩০০ কোটি ডলার। তবু হুথিদের হামলা পুরোপুরি ঠেকানো যাচ্ছে না।
সিএনএনের বিশ্লেষণে বড় ভূখণ্ড, একাধিক দিক থেকে হুমকি, কম সময়ে শনাক্ত করার চ্যালেঞ্জ ও হুথিদের বদলে যাওয়া কৌশলকে কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছে।
১৩ অক্টোবর ধাহরানে আরামকোর প্রশাসনিক ভবনে হামলা হয়েছে। সৌদি কর্তৃপক্ষ আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার কথা ও হতাহত না হওয়ার কথা জানিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সামরিক অভিযান বাড়ানো ও রাজনৈতিক সমঝোতা—দুই পথেই ঝুঁকি আছে।

#SaudiArabia #Houthi #YemenConflict #MiddleEast #MeehaNews

আজ

বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

পাঠের রং

এখন যা বেশি খোঁজা হচ্ছে

যেকোনো পাতায় / চাপলেই খোঁজ খুলবে। ফলাফলে বিভাগ, তারিখ ও ধরন দিয়ে ছাঁকতে পারবেন।