কয়রায় ‘বনলতা’ প্রকল্পের সেলাই প্রশিক্ষণ শুরু, প্রথম ব্যাচে ১৪ নারী
শনিবার (১০ অক্টোবর) বিকেলে কয়রা উপজেলার উত্তর বেদকাশী ইউনিয়নের শেখ সরদার পাড়ায় ‘বনলতা’ প্রকল্পের সেলাই প্রশিক্ষণ কেন্দ্র চালু হয়। প্রকল্প সূত্র অনুযায়ী ২৮ জন নারীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে, প্রথম ব্যাচে ১৪ জন অংশ নিয়েছেন। প্রশিক্ষণ শেষে নারীরা তৈরি পোশাক বিক্রির লভ্যাংশের ৭০ শতাংশ পাবেন বলে…

প্রকৃতির আঘাতে বারবার ঘরবাড়ি হারানো কয়রার উপকূলীয় মানুষের জীবন সংগ্রামের। এ জনপদের নারীদের অনেকের দিন কাটে তীব্র অভাবের মধ্যে। তাঁদের স্বাবলম্বী করার উদ্দেশ্যে ‘বনলতা’ প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। গত ১০ অক্টোবর (শনিবার) বিকেলে কয়রা উপজেলার উত্তর বেদকাশী ইউনিয়নের শেখ সরদার পাড়ায় সুব্রত মুন্ডার বাড়িতে একটি সেলাই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের উদ্বোধন হয়।
স্থানীয় ইউপি সদস্য শেখ সেরাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং আবুল কালামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সমাজসেবক মাস্টার জি এম নূর কামাল। প্রকল্পের প্রজেক্ট লিড (project lead) মো. জামিল হোসেন জানান, কেন্দ্রে সেলাই মেশিনসহ সব উপকরণ সরবরাহ করা হয়েছে। চারটি ব্যাচে মোট ২৮ জন নারীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। প্রথম ব্যাচে ওই দিন ১৪ জন অংশ নেন।
প্রশিক্ষণ শেষে নারীদের কাপড়ের শিট দেওয়া হবে। তৈরি পোশাক সংস্থার মাধ্যমে তা বিক্রি করে লভ্যাংশের ৭০ শতাংশ টাকা প্রশিক্ষণার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া হবে, যাতে তাঁরা স্বাবলম্বী হতে পারেন।
১৮ বছর বয়সী প্রশিক্ষণার্থী কল্পনা মুন্ডা বলেন, “আমাদের স্বপ্ন দেখার সুযোগ ছিল না। বনলতা প্রকল্পের এই কাজ শেখার সুযোগ আমাদের নতুন করে বাঁচতে শেখাবে। নিজের উপার্জনে এবার পরিবারকে সহযোগিতা করব।”
অনুষ্ঠানে সার্বিক সহায়তায় ছিলেন স্বেচ্ছাসেবী সবুজ হোসেন ও রাসেল আহমেদ। তাঁদের মতে, এই উদ্যোগ শুধু কাজ শেখাবে না, উপকূলীয় নারীদের আত্মমর্যাদাও ফিরিয়ে দেবে।




