ঝিনাইদহে সার ডিলার তালিকায় বিএনপি নেতার তিন স্বজন, অনিয়মের অভিযোগ
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ ও হরিণাকুণ্ডুতে সার ডিলার নিয়োগের তালিকায় জেলা বিএনপির সভাপতি এমএ মজিদের ভাই, চাচাতো শ্যালক ও শ্যালকের স্ত্রীর নাম এসেছে। অভিযোগ উঠেছে, কয়েকজন আবেদনকারীর স্থায়ী বাসিন্দা হওয়া ও গুদামসংক্রান্ত শর্ত মানা হয়নি। কালীগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানিয়েছেন, জেলা কমিটির সুপারিশে তাঁদের নাম তালিকাভুক্ত হয়েছে।…

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ ও হরিণাকুণ্ডু উপজেলায় সার ডিলার নিয়োগের তালিকায় জেলা বিএনপির সভাপতি এমএ মজিদের তিন স্বজনের নাম এসেছে। তাঁদের নিয়োগে সরকারি নীতিমালা অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
৯ অক্টোবর কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত তালিকায় কালীগঞ্জ উপজেলার শিমলা-রোকনপুর ইউনিয়নে মজিদের চাচাতো শ্যালক নাজমুল হক মিশুর প্রতিষ্ঠান মেসার্স নাজমুল ট্রেডার্স এবং ত্রিলোচনপুর ইউনিয়নে তাঁর বড় শ্যালকের স্ত্রী সুরমা হাসানের প্রতিষ্ঠান সাদ ট্রেডার্সের নাম রয়েছে। এ ছাড়া হরিণাকুণ্ডু উপজেলার চাঁদপুর ইউনিয়নে তাঁর ভাই আব্দুল লতিফের প্রতিষ্ঠান মেসার্স একতা ট্রেডার্সকে সার ডিলার হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
সার ডিলার নিয়োগের নীতিমালায় সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের স্থায়ী বাসিন্দা হওয়া এবং নিজস্ব বা ভাড়া করা কমপক্ষে ৫০ মেট্রিক টন ধারণক্ষমতার গুদাম থাকার শর্ত রয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, কালীগঞ্জে তালিকাভুক্ত দুজন সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের স্থায়ী বাসিন্দা নন। তাঁদের একজনের বাড়ি কালীগঞ্জ পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডে এবং অন্যজনের বাড়ি ৫ নম্বর ওয়ার্ডে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
হরিণাকুণ্ডুর চাঁদপুর ইউনিয়নে ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের জন্য ডিলার নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হলেও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আব্দুল লতিফকে তালিকাভুক্ত করার বিষয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
নাজমুল হক মিশু জানিয়েছেন, তিনি এমএ মজিদের আত্মীয় এবং প্রায় চার মাস আগে ডিলার হওয়ার জন্য আবেদন করেন। এর আগে তিনি সার ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। এ বিষয়ে জানতে চাইলে কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা নাহিদ বলেন, জেলা কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে তাঁদের নাম তালিকাভুক্ত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জেলা কমিটি দিতে পারবে।
জেলা প্রশাসক ও জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সভাপতি নোমান হোসেন জানিয়েছেন, তালিকাটি তখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জেলা কমিটির কাছে পৌঁছায়নি। তাঁর ভাষ্য, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট কমিটি নীতিমালা অনুযায়ী যাচাই-বাছাই করে নাম সুপারিশ করেছে। নিয়োগে অনিয়মের সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেলে তা যাচাই করে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এমএ মজিদের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে ডিলার নিয়োগের নথি, আবেদনকারীদের যোগ্যতা এবং সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নে তাঁদের স্থায়ী বসবাসের তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন।




