মূল কনটেন্টে যান
সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬২৭ আশ্বিন ১৪৩৩
সোমবার ১২ অক্টোবর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ ৩০ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি
অনুসন্ধানী ও সর্বশেষ বাংলা সংবাদ
সর্বশেষ

ঋণ বাতিল, শর্ত প্রত্যাখ্যান: আইএমএফের সঙ্গে নতুন দর-কষাকষিতে বাংলাদেশ

সরকার আইএমএফের পুরোনো সাড়ে ৫ বিলিয়ন ডলারের ঋণচুক্তি থেকে সরে এসে নতুন সাড়ে চার বিলিয়ন ডলারের তিন বছর মেয়াদি কর্মসূচির জন্য ৯ জুন আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন করেছে, যা আইএমএফের নিজস্ব মিশনপ্রধান আইভো ক্রিজনারও নিশ্চিত করেছেন। অভিন্ন ১৫ শতাংশ ভ্যাট ও ভর্তুকি প্রত্যাহারের মতো আইএমএফের কঠোর শর্ত…

আইএমএফ ও বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার প্রতীকী ছবি
আইএমএফের পুরোনো ঋণ কর্মসূচি থেকে সরে এসে নতুন শর্তে দর-কষাকষি চালাচ্ছে বাংলাদেশ সরকার

ঋণের প্রতিটি কিস্তির সঙ্গে একটি শর্ত আসে, আর প্রতিটি শর্তের সঙ্গে আসে একটি প্রশ্ন—সার্বভৌমত্ব ঠিক কতটা দরকষাকষিযোগ্য? বাংলাদেশ এখন ঠিক এই প্রশ্নের মুখোমুখি, যখন আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে পুরোনো ঋণচুক্তি থেকে সরে এসে একেবারে নতুন শর্তে দর-কষাকষি শুরু করেছে সরকার।

২০২৩ সালে তৎকালীন শেখ হাসিনা সরকার আইএমএফের সঙ্গে ৪.৭ বিলিয়ন ডলারের ঋণচুক্তি স্বাক্ষর করেছিল। পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে এই কর্মসূচির আকার ৮০০ মিলিয়ন ডলার বাড়িয়ে মোট সাড়ে ৫ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা হয়, যার মধ্যে ৩.৬৪ বিলিয়ন ডলার ইতিমধ্যে ছাড় হয়ে গেছে। কিন্তু রাজস্ব আদায়, বিনিময় হার ব্যবস্থাপনা ও আর্থিক খাত সংস্কারে সন্তোষজনক অগ্রগতি না হওয়ায় পঞ্চম ও ষষ্ঠ কিস্তির প্রায় ১.৩০ বিলিয়ন ডলার ছাড় স্থগিত করে দেয় আইএমএফ। তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর এই অচলাবস্থা নতুন মোড় নেয়।

গত ১৬ এপ্রিল ওয়াশিংটন ডিসিতে এক সংবাদ সম্মেলনে আইএমএফের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় বিভাগের পরিচালক কৃষ্ণা শ্রীনিবাসন জানান, নতুন সরকারের হাতে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় বড় ধরনের সংস্কার শুরুর জন্য এটিই উপযুক্ত সময়। তাঁর ভাষায়, বাংলাদেশের রাজস্ব আদায়ের পরিস্থিতি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে খারাপ হয়েছে এবং তা দেশের অর্থনৈতিক চাহিদার তুলনায় অনেক নিচে। কিন্তু মাস দুয়েকের মধ্যেই পরিস্থিতি বদলে যায়—২১ মে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদল ও আইএমএফের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর নাইজেল ক্লার্কের মধ্যে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের ভার্চুয়াল বৈঠকে পুরোনো কর্মসূচি থেকে নীতিগতভাবে সরে আসার সিদ্ধান্ত হয়।

এই সিদ্ধান্তই একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে। ৯ জুন অর্থমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে আইএমএফকে চিঠি দিয়ে তিন বছর মেয়াদি একটি নতুন ঋণ কর্মসূচির আবেদন করেন। প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী আইএমএফের বাংলাদেশবিষয়ক মিশনপ্রধান আইভো ক্রিজনার নিজেই এক বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন—দেশের অর্থনৈতিক সংস্কার কর্মসূচিকে সমর্থন দিতে নতুন কর্মসূচি শুরুর অনুরোধ জানানো হয়েছে, যার সম্ভাব্য আকার ৪০০ থেকে ৪৫০ কোটি ডলার। জুলাই মাসে আইএমএফের একটি মিশন এ বিষয়ে ঢাকায় আসে এবং সংস্কার শর্ত নিয়ে আলোচনা শুরু করে, যদিও চূড়ান্ত কিছু হয়নি।

বিশ্ব বিনিয়োগ সপ্তাহ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু স্পষ্ট ভাষায় বলেন, আইএমএফের কঠিন শর্ত মেনে কোনো ঋণ নেওয়া হবে না এবং বিদেশি সংস্থার শর্তযুক্ত ঋণের ওপর নির্ভর করে দেশ চালানোর প্রচলিত সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে সরকার। অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আইএমএফের পক্ষ থেকে সব ক্ষেত্রে অভিন্ন ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ, করছাড় বাতিল এবং বিদ্যুৎ-সারে দেওয়া সর্বজনীন ভর্তুকির বদলে সুনির্দিষ্ট নগদ অর্থ স্থানান্তরের জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছিল। সরকারের যুক্তি, জনগণের ভোটে নির্বাচিত একটি রাজনৈতিক সরকার হিসেবে নির্বাচনি ইশতেহারের পরিপন্থী কোনো দাতা সংস্থার শর্ত মেনে নেওয়া সম্ভব নয়।

তবে এই অবস্থান যত আত্মবিশ্বাসী শোনাক না কেন, সংখ্যাগুলো একটি কঠিন বাস্তবতার কথা বলছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, দেশের কর-জিডিপি অনুপাত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ছিল ৬.৭ শতাংশ, যা ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সামান্য বেড়ে দাঁড়ায় ৬.৮ শতাংশে—দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সর্বনিম্ন। অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন দাবি করেছেন এই অনুপাত “কমেছে”, তবে সরকারি তথ্য বলছে এটি প্রকৃতপক্ষে কমেনি, বরং দীর্ঘদিন ধরে ৭-৮ শতাংশের ঘরে আটকে থেকে সামান্য বেড়েছে মাত্র—সমস্যাটা হ্রাস নয়, বরং লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় বিশাল ব্যবধান। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এই অনুপাত ৯.৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য থাকলেও তা অর্জিত হয়নি, আর ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১০.২ শতাংশ রাজস্ব-জিডিপি অনুপাত, যার মধ্যে এনবিআরের একারই লক্ষ্য ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা।

এই লক্ষ্যমাত্রা কতটা বাস্তবসম্মত, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রেডিট রেটিং সংস্থা ফিচ রেটিংস স্পষ্ট সংশয় প্রকাশ করেছে। গত ১৬ জুন প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সংস্থাটি জানায়, সরকারের ৬.৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে তাদের নিজস্ব পূর্বাভাস মাত্র ৩.৫ শতাংশ, আর সংস্কার বাস্তবায়নে ধীরগতির কারণে রাজস্ব-জিডিপি লক্ষ্যমাত্রাও বড় ঝুঁকির মুখে। বাস্তবতাও এই সংশয়কে সমর্থন করছে—চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসেই এনবিআরের সংশোধিত ৫ লাখ ৩ হাজার কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় হয়েছে মাত্র ৪ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা—প্রায় ৮৩ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি। এই বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েই এনবিআর আইএমএফের কাছে পূর্ণাঙ্গ অটোমেশন, করজাল সম্প্রসারণ, কর ফাঁকি রোধ ও বকেয়া আদায় জোরদারের একটি “থ্রি-আর” কৌশল তুলে ধরেছে, যার লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে কর-জিডিপি অনুপাত ১০ শতাংশ ও ২০৩৫ সালের মধ্যে ১৫ শতাংশে উন্নীত করা। পলিসি এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান মাশরুর রিয়াজের পর্যবেক্ষণ, অর্থনীতিকে ধীরে ধীরে আনুষ্ঠানিক খাতের দিকে না আনতে পারলে টেকসইভাবে রাজস্ব ভিত্তি বাড়ানো সম্ভব নয়।

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক লিড ইকোনমিস্ট ড. জাহিদ হোসেন আমার দেশকে বলেন, সংস্কার ছাড়া আইএমএফ কখনো ঋণ কর্মসূচি হাতে নেয় না। তাঁর পর্যবেক্ষণ, আগের কর্মসূচির আওতায় ভর্তুকি যৌক্তিকীকরণ ও এনবিআর সংস্কারের মতো কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হলেও নতুন সরকার কিছু ক্ষেত্রে সেখান থেকে পিছিয়ে গেছে—ভ্যাটের একীভূত হার বাস্তবায়নে কোনো অগ্রগতি নেই, আর খেলাপি ঋণ শ্রেণিকরণের সময়সীমা ৯০ দিন থেকে আবার ১৮০ দিনে নেওয়ার আলোচনা নিয়েও আইএমএফ প্রশ্ন তুলতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেন। তবে তিনি এটাও স্বীকার করেন, বাজেটে ঘোষিত কিছু কর্মসূচি সরকার বাস্তবায়ন করেছে এবং সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংককে দাঁড় করানোর উদ্যোগও নিয়েছে।

সরকারপক্ষের বক্তব্য অবশ্য সম্পূর্ণ ভিন্ন সুরে বাঁধা। প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীরের ভাষ্যে, নতুন সরকার আসার পর আইএমএফের সঙ্গে নতুনভাবে আলোচনা শুরু হওয়াটাই স্বাভাবিক বাস্তবতা, তবে এর অর্থ এই নয় যে আগের শর্ত বা প্রতিশ্রুতিগুলো পুরোপুরি বাতিল। তাঁর দাবি, অতীতে ব্যাংক খাতের প্রকৃত খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১১ শতাংশ দেখানো হলেও বাস্তবে তা ছিল ৩৫.৭২ শতাংশ—এই লুকানো সংকট এখন সংশোধন করা হচ্ছে, সম্মিলিত ব্যাংকগুলোতে শৃঙ্খলা ফিরছে এবং হেয়ারকাটের মতো কঠোর পদক্ষেপ ছাড়াই পুনর্গঠনের কাজ চলছে। তাঁর মতে, এটি কোনো বাইরে থেকে চাপিয়ে দেওয়া শর্ত নয়, বরং সরকার নিজেই স্বপ্রণোদিত হয়ে এই শৃঙ্খলা চাইছে, কারণ বিনিয়োগ বাড়াতে শক্তিশালী ব্যাংক খাত জরুরি।

উপদেষ্টা তিতুমীর এটিকে একটি “প্যারাডাইম শিফট” বলে বর্ণনা করেছেন—তাঁর ভাষায়, প্রথমবারের মতো জনগণের অগ্রাধিকার ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর অগ্রাধিকার একই বিন্দুতে মিলিত হয়েছে, কারণ রাজস্ব বাড়ানো বা ব্যাংক খাতে শৃঙ্খলা আনা নিছক দাতা সংস্থার শর্ত নয়, দেশের মানুষেরই দাবি। এডিবির সঙ্গে ৫ বিলিয়ন ডলারের একটি সহায়তা নিয়ে আলোচনার কথাও তিনি জানান, যা দিয়ে একটি “গ্রোথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট নেটওয়ার্ক” তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী ২০৩০ সালের মধ্যে রাজস্ব-জিডিপি অনুপাত ১০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যও তিনি উল্লেখ করেন—যা এনবিআরের নিজস্ব দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয়, বরং সমান্তরাল।

বিকল্প অর্থায়নের প্রশ্নে সরকার একমুখী নির্ভরতা এড়িয়ে একাধিক পথে এগোচ্ছে। অর্থ বিভাগ সূত্রমতে, আইএমএফ কর্মসূচি সচল থাকা গুরুত্বপূর্ণ এই কারণে যে এটি আন্তর্জাতিক আর্থিক আস্থার একটি প্রতীক হিসেবে কাজ করে এবং এর মাধ্যমে বিশ্বব্যাংক ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক থেকে প্রতিবছর অতিরিক্ত তিন থেকে চার বিলিয়ন ডলারের বাজেট সহায়তা পাওয়ার পথ সহজ হয়। এ কারণেই বিশ্বব্যাংকের কাছে বাজেট সহায়তাসহ জ্বালানি, খাদ্য, ব্যাংকিং ও সামাজিক সুরক্ষা খাতে অর্থায়নও চাওয়া হচ্ছে। ঋণের দরজা খুলতে ইতিমধ্যে জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে সরকার, আর সামনে গ্যাস-বিদ্যুতের দাম সমন্বয় ও ভর্তুকি কমানোর মতো সিদ্ধান্তও আলোচনায় আসতে পারে।

সময়রেখা এখন স্পষ্ট। নতুন কাঠামোর ঋণের পরিমাণ, সময়সীমা ও শর্ত চূড়ান্ত করতে অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে ১৫ দিনের সফরে আইএমএফের একটি প্রতিনিধিদল ঢাকায় আসছে, যারা অর্থ বিভাগ, বাংলাদেশ ব্যাংক, এনবিআর, বিএসইসি, আইডিআরএসহ একাধিক সংস্থার সঙ্গে পৃথকভাবে বৈঠক করবে। ১২ থেকে ১৮ অক্টোবর থাইল্যান্ডের ব্যাংককে অনুষ্ঠেয় আইএমএফ-বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সভাতেও এই আলোচনা এগিয়ে নেওয়া হবে। সরকারের লক্ষ্য, ব্যাংকক বৈঠকের পর ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন ঋণচুক্তি চূড়ান্ত করা।

প্রেক্ষাপটের একটি ইতিবাচক দিকও আছে অবশ্য। itvbd-র একটি বিশ্লেষণ অনুযায়ী, দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বর্তমানে ৩৫ বিলিয়ন ডলারের ওপরে, আর ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রেমিট্যান্স এসেছে ৩৫.৫৬ বিলিয়ন ডলার—অর্থাৎ আইএমএফ ঋণ ছাড়াই অর্থনীতি সম্পূর্ণ অসহায় নয়। তবে বিশ্লেষকদের অভিমত, আইএমএফ কর্মসূচিতে যুক্ত থাকার গুরুত্ব নিছক সাড়ে চার বিলিয়ন ডলারের অঙ্কে সীমাবদ্ধ নয়—বরং বৈশ্বিক বাজারে দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা নিয়ে আস্থা পুনরুদ্ধার করাই এর মূল তাৎপর্য।

এই পুরো ঘটনাক্রম থেকে যে চিত্র ফুটে ওঠে তা হলো—সরকার প্রকাশ্যে “শর্তের কাছে নতিস্বীকার নয়” বলে যে অবস্থান নিয়েছে, বাস্তবে তা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্নতা নয়, বরং একই আইএমএফের সঙ্গে পুনঃসংজ্ঞায়িত শর্তে ফিরে যাওয়ার একটি কৌশল। পুরোনো ৫.৫ বিলিয়ন ডলারের কর্মসূচি বাতিল করে নতুন ৪.৫ বিলিয়ন ডলারের কর্মসূচির জন্য আবেদন—এই দুই সংখ্যার ফারাক নিজেই বলে দেয়, আলোচনার টেবিলে ছাড় দেওয়ার মতো জায়গা দুই পক্ষেরই আছে। প্রশ্নটা তাই আর “আইএমএফের শর্ত মানা হবে কি না” নয়; প্রশ্নটা হলো, রাজনৈতিক বৈধতা ও আর্থিক শৃঙ্খলা—এই দুইয়ের মধ্যে একটি টেকসই ভারসাম্য ডিসেম্বরের মধ্যে সত্যিই খুঁজে পাওয়া যাবে কি না, নাকি রাজস্ব আদায়ের দীর্ঘ ব্যর্থতার ইতিহাসই আবারও পুনরাবৃত্তি ঘটাবে। এই প্রশ্নের উত্তর নির্ভর করছে অলংকারপূর্ণ ঘোষণার ওপর নয়, বরং অক্টোবরের মিশন সফর ও ডিসেম্বরের সমঝোতায় প্রতিশ্রুতি আসলে বাস্তবায়িত হয় কি না তার ওপর—আর সেই পরীক্ষায় বাংলাদেশের ট্র্যাক রেকর্ড এখনো

প্রতিবেদনটি আপনার কাছে কেমন লাগল?

আবু আনান

বিশেষ প্রতিবেদক

বিশেষ প্রতিবেদক

এই প্রতিবেদনে কোনো তথ্যগত ভুল চোখে পড়লে সংশোধনী নীতি অনুযায়ী আমাদের জানান।

মন্তব্য

মন্তব্য দেখতে বা লিখতে চাপ দিন। মন্তব্য সম্পাদকীয় নীতিমালা মেনে প্রকাশ হয়।

সারাংশ

ঋণ বাতিল, শর্ত প্রত্যাখ্যান: আইএমএফের সঙ্গে নতুন দর-কষাকষিতে বাংলাদেশ

সরকার আইএমএফের পুরোনো সাড়ে ৫ বিলিয়ন ডলারের ঋণচুক্তি থেকে সরে এসে নতুন সাড়ে চার বিলিয়ন ডলারের তিন বছর মেয়াদি কর্মসূচির জন্য ৯ জুন আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন করেছে, যা আইএমএফের নিজস্ব মিশনপ্রধান আইভো ক্রিজনারও নিশ্চিত করেছেন।
অভিন্ন ১৫ শতাংশ ভ্যাট ও ভর্তুকি প্রত্যাহারের মতো আইএমএফের কঠোর শর্ত মানতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, যদিও দেশের কর-জিডিপি অনুপাত ৬.৮ শতাংশে আটকে আছে—লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বহু নিচে।
ফিচ রেটিংস সরকারের ৬.৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে মাত্র ৩.৫ শতাংশের পূর্বাভাস দিয়েছে, আর এনবিআর চলতি অর্থবছরের ১০ মাসেই ৮৩ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব ঘাটতিতে পড়েছে।
অক্টোবরের শেষে ১৫ দিনের সফরে আইএমএফ প্রতিনিধিদল ঢাকায় আসছে, আর ব্যাংককে আইএমএফ-বিশ্বব্যাংক বার্ষিক সভার পর ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন চুক্তি চূড়ান্ত করাই সরকারের লক্ষ্য।

#IMFBangladesh #TaxGDPRatio #AmirKhosru #BangladeshEconomy #MeehaNews

আজ

সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ৩০ রবিউস সানি ১৪৪৮ হিজরি

পাঠের রং

এখন যা বেশি খোঁজা হচ্ছে

যেকোনো পাতায় / চাপলেই খোঁজ খুলবে। ফলাফলে বিভাগ, তারিখ ও ধরন দিয়ে ছাঁকতে পারবেন।