প্রধান কন্টেন্টে যান
সোম ৫ অক্টোবর ২৬
হেডলাইন
বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন
মাতৃভূমি / শেরপুর

শেরপুরে মৃগী নদীতে মিলল নিখোঁজ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর মরদেহ

শেরপুরের মৃগী নদীতে নিখোঁজের প্রায় ২৬ ঘণ্টা পর স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী সৈয়দ সাদমান জয়ের (২২) মরদেহ উদ্ধার করেছে জামালপুর ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল।

মোট শেয়ারমোঃ: 1

শেরপুরে মৃগী নদীতে মিলল নিখোঁজ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর মরদেহ
নিহত স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সৈয়দ সাদমান জয়

শেরপুরের মৃগী নদীতে নিখোঁজের প্রায় ২৬ ঘণ্টা পর এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে (কোনো কোনো সূত্রে ৭টা) শেরপুর সদর উপজেলার ভাতশালা ইউনিয়নের ভাটারাঘাট এলাকার মৃগী নদী থেকে জামালপুর ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল তার মরদেহ উদ্ধার করে।

নিহত সৈয়দ সাদমান জয় (২২) কুড়িগ্রামের ওহেদুন্নী ওরফে মাখন মিয়া ও শাহনাজ পারভীন দম্পতির ছেলে। তিনি ঢাকার স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন এবং একসময় হ্যালোডটবিডিনিউজের শিশু সাংবাদিকতার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। তার মা শাহনাজ পারভীন শেরপুর সদর উপজেলার খাসপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক; পরিবারটি শেরপুর শহরের মধ্যশেরী এলাকায় ভাড়া থাকে।

জয়ের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার বিকেলে এক বন্ধুকে নিয়ে নদীতীরে বেড়াতে যান জয়। সেখানে অবস্থানকালে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একটি মাদকবিরোধী অভিযান চলে, যাতে তার বন্ধুকে মাদকসহ আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পরিবারের দাবি, অভিযানের সময় ভয় পেয়ে দৌড়ে পালান জয় ও নদীতে ঝাঁপ দিয়ে ওপারে যাওয়ার চেষ্টা করেন, এরপর থেকেই তার খোঁজ মিলছিল না।

পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা খোঁজাখুঁজির পর পুলিশের সহযোগিতা চাইলে বিষয়টি জামালপুর ফায়ার সার্ভিসকে জানানো হয়। রোববার বিকেল থেকে প্রায় তিন ঘণ্টার অভিযান শেষে মরদেহ উদ্ধার হয়। ময়নাতদন্তের জন্য তা জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।

শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) নাসরিন আক্তার বলেন, ওই দিন পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো অভিযান পরিচালনা করা হয়নি; পরিবারের সহযোগিতা চাওয়ার পর প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয় এবং ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলের সহযোগিতায় মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া চলমান বলে জানান তিনি।

জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক হেলাল উদ্দিন জানান, উপপরিদর্শক মোস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে শনিবার সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে ওই এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে একজনকে মাদকসহ আটক করা হয়। তবে অভিযানের ভয়ে কারও নদীতে ঝাঁপ দেওয়ার বিষয়ে তারা অবগত নন বলে জানান তিনি।

সম্পাদকীয় নোট

পুলিশ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর পৃথক সংস্থা—পুলিশ নিজে অভিযান না চালানোর কথা বললেও, ভিন্ন সংস্থার অভিযান চালানোর বিষয়টি উভয় পক্ষই নিশ্চিত করেছে, এতে বিবৃতিতে কোনো প্রকৃত স্ববিরোধিতা নেই। মরদেহ উদ্ধারের সময় নিয়ে সূত্রভেদে সামান্য ফারাক (সাড়ে ৬টা/৭টা) থাকায় উভয়ই উল্লেখ করা হলো। “ভয়ে নদীতে ঝাঁপ” বিষয়টি সর্বত্র পরিবার ও স্থানীয়দের বরাতে এসেছে, কোনো সরকারি সংস্থা স্বাধীনভাবে এখনো নিশ্চিত করেনি বলে প্রতিবেদনে তা “দাবি” হিসেবেই রাখা হয়েছে।

মোট শেয়ারমোঃ: 1

আবু আনান

বিশেষ প্রতিবেদক

পোস্টটি কেমন লাগলো?

মন্তব্য করুন

একটি মন্তব্য লিখুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না। প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রগুলো * দ্বারা চিহ্নিত।

সম্পর্কিত খবর

সাম্প্রতিক খবর

সর্বাধিক পঠিত