নিউমার্কেটে দোকানে হামলা-দখলের অভিযোগ ঢাকা কলেজ ছাত্রদল নেতাদের বিরুদ্ধে
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুর ২টার দিকে নিউমার্কেটের গ্লোব শপিং সেন্টারের দ্বিতীয় তলার একটি দোকানে হামলা ও দখলের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগের তীর ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়কসহ কয়েকজন নেতাকর্মীর দিকে। দোকানি ও মার্কেট ম্যানেজারকে মারধরের কথাও বলা হয়েছে। নিউমার্কেট থানার ওসি জানিয়েছেন, মালিকানা নিয়ে উচ্চ আদালতে মামলা চলছে। দুই পক্ষকে আদালতে যেতে বলা হয়েছে। ছাত্রদলের কলেজ শাখার সদস্য সচিব বলেছেন, ঘটনা সত্য হলে তদন্ত করে সাংগঠনিক ব্যবস্থার সুপারিশ করবেন।#NewMarket #DhakaCollege #Chhatradal #MeehaNews

রাজধানীর নিউমার্কেটে গ্লোব শপিং সেন্টারের একটি দোকানে হামলা, মালামাল লুট ও দখলের অভিযোগ উঠেছে ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে। হামলায় ভাড়াটিয়া দোকানি ও মার্কেটের ম্যানেজার মারধরের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ। ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজ ছড়িয়ে পড়েছে।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুর ২টার দিকে মার্কেটের দ্বিতীয় তলার ২৮ নম্বর দোকানে ঘটনাটি ঘটে।
অভিযুক্তদের মধ্যে আছেন ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মাজেদুল ইসলাম, জামাল আহমেদ জেনিন ও সাইফ হাসান। আহ্বায়ক সদস্য সাগর খান, পারভেজ মোশাররফ ও অপু মৃধা এবং কর্মী মোস্তাক আহমেদ ও নাইম আহমেদের নামও এসেছে।
ফুটেজ অনুযায়ী, মাজেদুল ও জামালের নেতৃত্বে একদল লোক দোকান ভাঙচুর করছেন। ভাড়াটিয়া আমিনুল ইসলাম ও তাঁর ছেলেকে মারধর করতে দেখা যায়। মার্কেট ম্যানেজার জুয়েল রানা এলে মাজেদুল তাঁকে কিল-ঘুষি মারছেন। একই ফুটেজে দোকানের মালপত্র সরিয়ে নিতেও দেখা যায়।
আমিনুল ইসলামের দাবি, তিনি জমির মালিকের কাছ থেকে দোকানটি ভাড়া নিয়ে অক্টোবরের ১ তারিখ থেকে ব্যবসা শুরু করেছেন। হঠাৎ হারুন নামে একজন নিজেকে দোকানের মালিক দাবি করেন। এরপর ৩০ থেকে ৪০ জন এসে দোকান তছনছ করে মালপত্র বাইরে ফেলে দেয়। তাঁর অভিযোগ, ছেলেকে তাঁর সামনে মারধর করা হয়েছে, মানিব্যাগ ও মালপত্র নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং তাঁকে জবাই করার হুমকি দেওয়া হয়েছে। তাঁর হিসাবে ক্ষতি প্রায় দুই লাখ টাকা। তিনি জানান, প্রশাসনের লোকজন এসে আপাতত দোকান বন্ধ রাখতে বলেছেন।
ম্যানেজার জুয়েল রানার ভাষ্য, ভূমির মালিক এক ভাড়াটিয়াকে দোকান বরাদ্দ দিয়েছিলেন। হারুনকে তিনি ‘অবৈধভাবে মালিকানা দাবি করা’ বহিরাগত বলেছেন, যিনি ইতালিপ্রবাসী। জুয়েলের অভিযোগ, রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ঢাকা কলেজের কয়েকজন ও ওই দাবিদার দোকান দখলের চেষ্টা করছেন। মার্কেট কর্তৃপক্ষ আইনি পদক্ষেপ চায় এবং ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন।
নিউমার্কেট থানার ওসি মোহাম্মদ আইয়ুব বলেন, দোকানের মালিকানা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে উচ্চ আদালতে মামলা চলছে। তাই দুই পক্ষকেই আদালতের শরণাপন্ন হতে বলা হয়েছে।
ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের সদস্য সচিব মিল্লাদ হোসেন বলেন, তিনি ঢাকার বাইরে আছেন এবং ঘটনার বিষয়ে এখনো জানেন না। ঘটনা সত্য প্রমাণিত হলে তদন্ত করে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে সাংগঠনিক ব্যবস্থার সুপারিশ করবেন বলে জানান। তাঁর ভাষ্য, মার্কেটে গিয়ে হামলা-ভাঙচুর গ্রহণযোগ্য নয়।





